স্কুলে ভর্তিতে লটারি বাতিল: প্রতিক্রিয়া
শিক্ষার্থী ভর্তিতে (প্রথম থেকে নবম শ্রেণি) লটারি পদ্ধতি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আমার বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত সুবিবেচনাপ্রসূত হয়নি। ঠিক কেন বা কী কারণে এখনই ত্বরিত (আগামী বছরের ভর্তি শুরুর বাকি প্রায় ৮ মাস) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা বোধগম্য নয়।
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এমনিতেই অত্যন্ত বৈষম্যমূলক। ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে কিছুটা সমতা আনার চেষ্টা হয়েছিল। মূলত ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল, যাতে কোচিং-ভর্তিবাণিজ্য ও দুর্নীতি রোধ করা যায়। আর কোচিং করার ফলে শিশু ও অভিভাবকদের ওপর মানসিক চাপও সৃষ্টি হয়। লটারি পদ্ধতি বাতিলের ফলে ভর্তি ও কোচিং বাণিজ্য এবং বৈষম্য আবার বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।
ভর্তিতে আদর্শ সমাধান হলো প্রতিটি আবাসিক এলাকায় একটি মানসম্মত বিদ্যালয় থাকা, যাতে নিজের এলাকায় শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারে। আমি মনে করি, সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রতি এলাকায় মানসম্মত গ্রহণযোগ্য বিদ্যালয় তৈরি করা। আংশিক সমাধান হিসেবে লটারি পদ্ধতি তুলনামূলক ভালো। তাই আমি মনে করি, ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। লটারি পদ্ধতির কোনো দুর্বলতা থাকলে তাও সমাধান করা যায়।