সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রা এবং দেশে ফেরার সময় প্রটোকল হিসেবে বিমানবন্দরে এখন থেকে একজন মন্ত্রীসহ মোট চরজন উপস্থিত থাকবেন। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনজন মন্ত্রীসহ কমপক্ষে ২০ জন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনজন উপদেষ্টাসহ কমপক্ষে ১৮ জনকে বিমানবন্দরে এই প্রটোকল দিতে হতো।
প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রা ও স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকালে অনুসরণীয় রাষ্ট্রাচার নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার অফিস আদেশ জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর অনুলিপি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, সরকার এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশযাত্রা ও স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকালে বিমানবন্দরে মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠতম একজন মন্ত্রী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব উপস্থিত থাকবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টার সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে প্রত্যাবর্তনকালে কোন কোন কর্মকর্তাকে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকতে হবে, সে বিষয়ে অনুসরণীয় রাষ্ট্রাচার ঠিক করে দিয়ে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট অফিস আদেশ জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
তখন উপদেষ্টা পরিষদের জ্যেষ্ঠতম একজন উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সংযুক্ত উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, ডিপ্লোমেটিক কোরের প্রধান, স্বাগতিক দেশ বা দেশের মিশনপ্রধান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধান ছাড়াও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং পররাষ্ট্রসচিবকে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকতে হতো।
এর বাইরে পুলিশ মহাপরিদর্শক, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচারপ্রধানকে (চিফ অব প্রটোকল) প্রধান উপদেষ্টার বিদেশযাত্রা এবং দেশে ফেরার সময় প্রটোকল হিসেবে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকতে হতো।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রা ও বিদেশ থেকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকালে অনুসরণীয় রাষ্ট্রাচার নিয়ে ২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর অফিস আদেশ জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সে সময় মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠতম একজন মন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী, সংসদ উপনেতা, চিফ হুইপ, জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সাধারণ সম্পাদক, ডিপ্লোমেটিক কোরের প্রধান, স্বাগতিক দেশ বা দেশের মিশনপ্রধান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিবসহ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানদের বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকতে হতো।
এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং পররাষ্ট্রসচিবকে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকতে হতো। এ ছাড়া মহাপুলিশ পরিদর্শক, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচারপ্রধানকে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকতে হতো।