দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি প্রত্যাশিত ও উন্নত দেশ গড়তে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশবাসীর সমর্থন থাকলে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ গঠনে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশের মাটিতে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করতে পেরে তিনি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এবারের মতো ভবিষ্যতেও দেশবাসী যেন শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে ঈদ উদ্যাপন করতে পারে—এটাই তাঁর প্রত্যাশা।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি একটি সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
এর আগে সকাল ১০টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, ছোট ভাই আরাফাত রহমানের স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যগণ, সংসদ সদস্যগণ, বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ, আলেম-ওলামা-মাশায়েখ, শিল্পী-সাহিত্যিক, উচ্চপদস্থ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যমুনায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আসেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় তাঁর সঙ্গে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়, ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন।
এর আগে আজ সকালে রাজধানীর হাইকোর্ট-সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঈদের নামাজ আদায় করেন।
জামাতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যগণ, প্রতিমন্ত্রীগণ, জাতীয় সংসদের সদস্যগণ, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকেরাও শরিক হন।