কখনো কখনো রং রাজনৈতিক পরিচয় বহন করে, আবার কখনো সেই রংই হয়ে ওঠে বিভিন্ন প্রতীকের উৎস। সময় যত গড়িয়েছে, ফ্যাশনে রঙের ব্যবহার ততই হয়েছে প্রতীকী। ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। দিবসটি উপলক্ষে অনেকে সেদিন বিভিন্ন রঙের পোশাক পরবেন। আর পোশাকে সেসব রঙের থাকবে বিভিন্ন অর্থ ও ব্যঞ্জনা।
■ রঙের গুরুত্ব ও প্রতীকী অর্থ
নারী দিবসের মতো যেকোনো দিবসে সাজপোশাকে রঙের ব্যবহার শুধু নান্দনিকতা নয়; বরং এটি গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তার বাহক। ১৯০৮ সালে লন্ডনের সোশ্যাল অ্যান্ড পলিটিক্যাল ইউনিয়ন থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণায় নারী দিবসের সঙ্গে কিছু নির্দিষ্ট রং ঐতিহাসিকভাবে মিশে আছে, যা আজও বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
বেগুনি: এটি নারী দিবসের প্রধান রং, যা নারীর মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং লৈঙ্গিক সমতার প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।
সাদা: শান্তি, পবিত্রতা এবং নতুন শুরুর প্রতীক হিসেবে সাদা রং ব্যবহৃত হয়, যা সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যের বার্তা দেয়।
গোলাপি: এটি আধুনিক নারীত্বের প্রতীক। নারীর মানসিক দৃঢ়তা, সহমর্মিতা ও আত্মবিশ্বাস উদ্যাপনে এই রং অনন্য।
সবুজ: আশা ও স্থায়িত্বের প্রতীক হলো সবুজ। এটি নারী অধিকারের দীর্ঘস্থায়ী লড়াই এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নির্দেশ করে।
■ কর্মক্ষেত্র থেকে উৎসব—কোথায় কেমন সাজ
স্থানভেদে আপনার সাজপোশাকে আসতে পারে ভিন্নতা। অন ক্লাউড নাইন অ্যান্ড হাফ-এর স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার আফরিন আহমেদ বলেন, ‘অফিসের জন্য ল্যাভেন্ডার কিংবা সাদা রঙের স্যুট অথবা
সুতি বা সিল্কের মার্জিত শাড়ি
বেছে নিতে পারেন। জমকালো সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে বেগুনি বা গাঢ় সবুজ রঙের ফ্লোর-লেন্থ গাউন কিংবা ককটেল ড্রেস হবে সেরা পছন্দ। আবার বন্ধুদের সঙ্গে
ঘরোয়া আড্ডায় ফ্লোরাল প্রিন্টের মিডি কিংবা ম্যাক্সি ড্রেস কিংবা হাই-ওয়েস্ট জিনসের সঙ্গে স্টাইলিশ কুর্তি হতে পারে আরামদায়ক ও ট্রেন্ডি।’
■ ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধন
ফ্যাশনে এখন ঐতিহ্য ও আধুনিকতার ফিউশন খুব জনপ্রিয়। শাড়ির সঙ্গে আধুনিক ব্লাউজ কিংবা জ্যাকেট দিয়ে স্টাইল করলে এক অনন্য লুক তৈরি হয়। বিশ শতকের শুরুতে ভোটাধিকার আন্দোলনে নারীরা সাদা পোশাকের সঙ্গে সবুজ ও
বেগুনি অনুষঙ্গ ব্যবহার করতেন। সেই ইতিহাস বিবেচনায় রেখে আপনিও পোশাকে এই রংগুলোর
ছোঁয়া রাখতে পারেন।
■ সাসটেইনেবল ফ্যাশন
এ যুগে নারীরা সাসটেইনেবল ফ্যাশনের দিকে ঝুঁকছেন। তাঁরা এখন অরগানিক
কটন, লিনেন অথবা বাঁশ থেকে তৈরি
সুতার পোশাক বেছে নিচ্ছেন। এ ছাড়া আলমারিতে পড়ে থাকা পুরোনো শাড়িকে নতুন করে ফিউশন ড্রেসে রূপান্তর করার মাধ্যমেও আপনি পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারেন। একই সঙ্গে যদি হাতে তৈরি গয়না ব্যবহার করা যায়, তাহলে ক্ষুদ্র নারী কারিগরদের ক্ষমতায়নে সাহায্য করা যায়।
■ ইনক্লুসিভ ফ্যাশন
আফরিন আহমেদ বলেন, ‘নারী দিবস সবার জন্য। তাই শরীরের গড়ন যেমনই হোক, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পোশাক নির্বাচন করাই আসল। প্লাস-সাইজ নারীদের জন্য ‘এ-লাইন’ ড্রেস বা বেল্টযুক্ত পোশাক বেশ মানানসই। অন্যদিকে, উচ্চতা কম হলে হাই-ওয়েস্ট স্কার্ট বা ট্রাউজার এবং লম্বাদের জন্য লেয়ারযুক্ত পোশাক দারুণ দেখায়।’ এখন সহজবোধ্য ফ্যাশন জনপ্রিয় হচ্ছে, যেখানে বোতামের বদলে ম্যাগনেটিক কিংবা ভেলক্রো সিস্টেম ব্যবহার করা হয়।
■ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের পোশাক
অনলাইন মিটিং করার সময় নজর দিন আপনার পোশাকের উপরিভাগে। ভিডিও কলে গাঢ় রং; যেমন বেগুনি বা গোলাপি ভালো দেখায়। সঙ্গে আকর্ষণীয় নেকলাইন অথবা একটি সুন্দর স্কার্ফ আপনার লুকে যোগ করতে পারে বাড়তি মাত্রা।
মনে রাখবেন, ফ্যাশন মূলত নিজেকে প্রকাশের শক্তিশালী হাতিয়ার। আপনি যেখানেই থাকুন, অফিস হোক কিংবা আড্ডায়—পর্দার সামনে পোশাক
যেন আপনার ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরে। দিন শেষে আপনার আরাম এবং আত্মবিশ্বাসই হলো শ্রেষ্ঠ স্টাইল স্টেটমেন্ট।
পোশাক: অন ক্লাউড নাইন অ্যান্ড হাফ ,মেকআপ: নিউ রেড