আবাসন খরচ ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোতে তরুণ ভাড়াটিয়াদের মধ্যে এক নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তাঁরা ড্রয়িংরুম বা লিভিং রুম ছাড়াই অ্যাপার্টমেন্ট বেছে নিচ্ছেন। অনেকেই এখন বাসায় আলাদা বসার জায়গার চেয়ে বাসার সুবিধাজনক লোকেশন, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
রোববার (২৯ মার্চ) এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, ২৫ বছর বয়সী জেন সিয়েরা ২০২২ সালে আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক সিটিতে এসে প্রথমবার এমন অ্যাপার্টমেন্ট ধারণার মুখোমুখি হন, যেখানে শোবার ঘর থাকলেও আলাদা লিভিং রুম নেই। তাঁর ভাষায়, লিভিং রুম ছাড়া বাসা হতে পারে, এমন কিছু তাঁর কল্পনাতেও ছিল না। শুরুর দিকে ম্যানহাটনের বাসা ভাড়া দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন। পরে এক বন্ধুর সঙ্গে একটি ছোট লিভিং রুমসহ ‘ওয়ান-বেডরুম ফ্লেক্স’ অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেন। খরচ আরও কমাতে এবং উন্নত সুযোগ-সুবিধার জন্য তিনি একপর্যায়ে কুইন্সে চলে যান।
বর্তমানে সিয়েরা ও তাঁর সহকর্মী প্রায় ৩ হাজার ৭০০ ডলার মাসিক ভাড়ায় একটি ‘রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড’ অ্যাপার্টমেন্টে থাকছেন—যেখানে ভাড়া বৃদ্ধির ওপর আইনি সীমা রয়েছে। অ্যাপার্টমেন্টটিতে কোনো লিভিং রুম নেই, তবুও এতে ইন-ইউনিট লন্ড্রি, জিম, ডোরম্যান এবং পোষা প্রাণীর জন্য আলাদা জায়গার মতো সুবিধা রয়েছে। অতিথি আপ্যায়নের ক্ষেত্রে তাঁরা ছোট পরিসরে এক-দুজন বন্ধুকে আমন্ত্রণ জানান এবং সীমিত জায়গাকে সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করেন।
এটি শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, বরং একটি বিস্তৃত প্রবণতার অংশ। রুম ভাড়া প্ল্যাটফর্ম স্পেয়াররুম-এর ২০২৬ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে লিভিং রুমবিহীন শেয়ার্ড অ্যাপার্টমেন্টের সংখ্যা গত পাঁচ বছরে প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। ২০২৫ সালে তাদের প্ল্যাটফর্মে ৩৫ বছরের কম বয়সী বাসিন্দাদের অংশ ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ।
স্পেয়াররুম-এর যোগাযোগ পরিচালক ম্যাট হাচিনসনের মতে, বাড়তি ভাড়ার চাপের কারণে অনেকেই একটি শোবার ঘরকে লিভিং রুম হিসেবে ব্যবহার করছেন, অথবা একেবারেই লিভিং রুম বাদ দিচ্ছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, একসঙ্গে সময় কাটানোর জন্য একটি সাধারণ বসার জায়গা সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এদিকে আর্থিক পরিকল্পনাবিদ অ্যান্ড্রু হুইন মনে করেন, মহামারির পর নির্মাণ ও আবাসন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ডেভেলপাররা এখন বেশি ভাড়াযোগ্য শোবার ঘর রাখার দিকে ঝুঁকছেন। ফলে প্রচলিত লে–আউট বদলে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে তরুণদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা করা জরুরি। ঋণ পরিশোধ, সঞ্চয় বৃদ্ধি বা ভবিষ্যতে নিজস্ব বাসা কেনার লক্ষ্য ঠিক করে সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কারণ আর্থিকভাবে টেকসই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত জীবনযাত্রাকে স্থিতিশীল করে তোলে।