হোম > ইসলাম

সন্তানের রোগমুক্তির জন্য যে দোয়া পড়বেন

ইসলাম ডেস্ক 

ছবি: সংগৃহীত

সন্তান মহান আল্লাহর দেওয়া পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নেয়ামত এবং আমাদের কাছে এক পবিত্র আমানত। বর্তমান সময়ে হাম, নিউমোনিয়া বা বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একজন সচেতন অভিভাবক হিসেবে সন্তানের শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি আত্মিক সুরক্ষার জন্য মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করা একান্ত প্রয়োজন। নবী করিম (সা.) আমাদের এমন কিছু শক্তিশালী দোয়া শিখিয়েছেন, যা নিয়মিত পাঠ করলে মহান আল্লাহ সন্তানকে যাবতীয় রোগবালাই, মহামারি এবং আকস্মিক বিপদ থেকে নিরাপদ রাখেন।

নিচে হাদিসে বর্ণিত একটি বিশেষ দোয়া ও এর আমল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

বিপদ ও রোগব্যাধি থেকে সুরক্ষার দোয়া

হাদিস শরিফে বর্ণিত এই দোয়াটি পাঠ করলে আসমান ও জমিনের কোনো অনিষ্টই ক্ষতি করতে পারে না।

দোয়াটি হলো:

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামা-ই ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম।

অর্থ: আল্লাহর নামে (শুরু করছি), যার নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো বস্তুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না; আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়াটি পাঠ করবে, সকাল হওয়া পর্যন্ত তার ওপর কোনো হঠাৎ বিপদ আসবে না। আর যে ব্যক্তি সকালে তিনবার এটি পাঠ করবে, সন্ধ্যা পর্যন্ত তার ওপর কোনো আকস্মিক বিপদ আসবে না।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৫০৮৮)

দোয়াটি আমল করার সঠিক নিয়ম

সন্তানের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা ও সুরক্ষার জন্য নিচের নিয়মে আমলটি করতে পারেন—

  • সময়: প্রতিদিন সকালে (ফজরের নামাজের পর) এবং বিকেলে (আসর বা মাগরিবের নামাজের পর)।
  • পদ্ধতি: দোয়াটি তিনবার পাঠ করে আপনার সন্তানের মাথা, বুক বা সম্পূর্ণ শরীরে ফুঁ দিন।
  • বিশ্বাস: দোয়া করার সময় পূর্ণ আন্তরিক বিশ্বাস এবং আল্লাহর ওপর দৃঢ় নির্ভরতা বজায় রাখতে হবে।

অভিভাবকদের জন্য বিশেষ টিপস

দোয়ার পাশাপাশি সন্তানের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও ইসলামের নির্দেশ। তাই আমলের সঙ্গে সঙ্গে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন—

  • ১. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: ‘পবিত্রতা ইমানের অঙ্গ’—তাই সন্তানের পোশাক ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখুন।
  • ২. পুষ্টিকর খাবার: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার (যেমন—মধু, কালোজিরা ও খেজুর) সন্তানকে খাওয়ান।
  • ৩. ডাক্তারের পরামর্শ: অসুস্থতায় চিকিৎসা নেওয়া নবীজি (সা.)-এর সুন্নত। তাই প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

দোয়া হলো মুমিনের হাতিয়ার। আমরা যখন আল্লাহর কাছে আমাদের সন্তানের নিরাপত্তা চাই, তখন তিনি অত্যন্ত খুশি হন। আশা করা যায়, এই আমলের বরকতে মহান আল্লাহ আমাদের সন্তানদের সব ধরনের রোগ ও অকল্যাণ থেকে রক্ষা করবেন।

নফল নামাজ কি জামাতে আদায় করা যাবে

দ্রুত সুস্থতা লাভের ৩ দোয়া

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৬ এপ্রিল ২০২৬

অনলাইন জগৎকে হঠাৎ বিদায় জানালেন সৌদির গ্র্যান্ড মুফতি

রিজিকের বরকত চলে যায় যে ১০ কারণে

প্রতিবেশীর হক ও সুসম্পর্ক রক্ষা যে কারণে

তাহিয়্যাতুল অজু কী, কীভাবে আদায় করবেন?

হজের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি, যা জানা জরুরি

অল্প সময়ে বিপুল সওয়াবের সহজ আমল

ইসলামের গম্বুজ বলা হয় যে নগরীকে