রমজান-পরবর্তী শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। মুমিনজীবনের আমল ও তাকওয়ার ধারা অব্যাহত রাখতে এই রোজার গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহর রাসুল (সা.) নিজে এই আমল করেছেন এবং সাহাবিদেরও নির্দেশ দিয়েছেন।
এর সওয়াব সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, ‘যারা রমজানে রোজা পালন করবে এবং শাওয়ালে আরও ছয়টি রোজা পালন করবে; তারা যেন সারা বছরই রোজা পালন করল।’ (সহিহ মুসলিম)। অর্থাৎ, রমজানের ৩০টি রোজা ১০ মাসের সমান এবং শাওয়ালের ৬টি রোজা ২ মাসের সমান সওয়াব বহন করে, যা মিলিয়ে পূর্ণ এক বছরের সমতুল্য হয়।
শাওয়ালের রোজার নিয়ত করার নিয়ম
শাওয়ালের রোজা যেহেতু নফল ইবাদত, তাই এর নিয়তের ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু নিয়ম রয়েছে। এর নিয়ত সুবহে সাদিকের আগেই অর্থাৎ রাতেই করতে হবে। সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার পর এই রোজার নিয়ত করলে তা আদায় হবে না।
সেহরি মিস করলে করণীয়
অনেকেই মনে করেন সেহরি খেতে না পারলে রোজা হয় না, এটি ভুল ধারণা। যদি কেউ সন্ধ্যার পর বা রাতে মনে মনে এই নিয়ত করে রাখেন যে ‘আমি আগামীকাল শাওয়ালের রোজা রাখব’, তবে তিনি যদি ঘুমের কারণে সেহরির সময় উঠতে না-ও পারেন, তবু দিনের বেলা রোজা পূর্ণ করলে তা শুদ্ধ হবে।
এই ছয় রোজার ফজিলত
রমজানের ফরজ রোজার কোনো ত্রুটিবিচ্যুতি থাকলে এই নফল রোজা তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে কাজ করে। এটি রমজানের রোজা কবুল হওয়ার অন্যতম একটি আলামত। দীর্ঘ এক বছর রোজা রাখার অসামান্য সওয়াব হাসিল হয়।
শাওয়ালের ছয় রোজা সারা বছরের রোজার সওয়াব অর্জনের এক সুবর্ণ সুযোগ। তাই নিয়ম মেনে সঠিক সময়ে নিয়ত করে এই রোজাগুলো রাখা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য কল্যাণকর।