রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করা একটি অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। নারীরা ঘরে নির্দিষ্ট স্থানে ইতিকাফ করতে পারেন। তবে নারীদের ইতিকাফের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব বা পিরিয়ড-সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা রয়েছে, যা প্রতিটি নারীর জেনে রাখা জরুরি।
শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ঋতুস্রাব (পিরিয়ড) অবস্থায় নারীদের ইতিকাফ করা সহিহ নয়। এর প্রধান কারণ হলো: ১. সুন্নত ইতিকাফের জন্য রোজা রাখা শর্ত। ২. ঋতুস্রাব অবস্থায় রোজা রাখা জায়েজ নেই, তাই ইতিকাফও সহিহ হবে না।
নারীদের ইতিকাফে বসার আগেই নিজেদের মাসিক চক্র বা ঋতুস্রাবের দিন-তারিখ হিসাব করে নেওয়া উচিত। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন ইতিকাফ চলাকালে দিনগুলোতে পিরিয়ড শুরু হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে।
যদি ইতিকাফ শুরু করার পর হঠাৎ ঋতুস্রাব শুরু হয়ে যায়, তবে ইতিকাফ ভেঙে যাবে। এ ক্ষেত্রে করণীয় হলো: ১. অবিলম্বে ইতিকাফের স্থান ত্যাগ করা। ২. এই ইতিকাফটি পরে কাজা করতে হবে।
ইতিকাফ ভেঙে গেলে পুরো ১০ দিনের কাজা করা জরুরি নয়; বরং মাত্র ১ দিনের ইতিকাফ রোজাসহ কাজা করলেই হবে। কাজা আদায়ের নিয়মটি হলো: ক. রমজান মাসের পর যেকোনো একদিন সূর্যাস্তের আগে ইতিকাফের নিয়তে বসতে হবে। খ. পরদিন রোজা রাখতে হবে। গ. সেদিন সূর্যাস্তের পর ইতিকাফ শেষ হবে।
যাদের রমজানের শেষ দশকে ঋতুস্রাব হওয়ার নিয়মিত অভ্যাস রয়েছে, তারা চাইলে সুন্নত ইতিকাফের পরিবর্তে নফল ইতিকাফ করতে পারেন। ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার আগপর্যন্ত ইবাদতের নিয়তে ইতিকাফ করা যাবে এবং এতে সওয়াব পাওয়া যাবে।
তথ্যসূত্র: ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২০৭; বাদায়েউস সানায়ে: ২/২৭৪; আহসানুল ফাতাওয়া: ৪/৫০২