হোম > ইসলাম

দেহের রোজার পাশাপাশি আত্মিক সংযমও জরুরি

ফয়জুল্লাহ রিয়াদ

প্রতীকী ছবি

রমজান মাসে মুসলমানরা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকেন। এই সংযম ইসলামের অন্যতম মূল স্তম্ভ। কিন্তু রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য কি কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকা? না, রোজার আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে অন্তরের পরিশুদ্ধিতে। দেহের রোজার মূল ভিত্তি অন্তরের রোজায়। যে কোনো ইবাদতেই অন্তরের স্থান সবার আগে।

অন্তর এমন এক বস্তু, যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে মানবজীবনের সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়। হজরত নুমান ইবনে বাশির (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, ‘জেনে রেখো, দেহের মধ্যে এমন একটি গোশতের টুকরা রয়েছে, তা যখন সংশোধিত ও ঠিক হয়ে যায়, তখন গোটা দেহই ঠিক হয়ে যায়। আর যখন তা নষ্ট হয়ে যায়, তখন পুরো দেহই নষ্ট হয়ে যায়। জেনে রাখো, সেটি হলো হৃদয়।’ (সহিহ্ মুসলিম: ১৫৯৯)

হৃদয়ের পরিশুদ্ধি অর্জিত না হলে বাহ্যিক রোজা মূল্যহীন হয়ে যায়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মিথ্যা কাজ পরিত্যাগ করল না, তার শুধু পানাহার ত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (সহিহ্ বুখারি: ১৯০৩)। এই হাদিস থেকেই বোঝা যায় যে, বাহ্যিক সংযমের পাশাপাশি আত্মিক সংযমও অপরিহার্য।

অন্তরের রোজা মানে হলো হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার, লোভ ও কুধারণা থেকে মনকে মুক্ত রাখা। চোখের রোজা হলো হারাম দৃষ্টি থেকে বিরত থাকা। কানের রোজা হলো গিবত, অশ্লীলতা ও মিথ্যা না শোনা। জিভের রোজা হলো মুখে মিথ্যা, গালি ও পরনিন্দা না আনা। হাতের রোজা হলো অন্যায় কাজের প্রতি হাত না বাড়ানো।

অনেকেই রমজান মাসে সারাদিন না খেয়ে থাকেন, অথচ সন্ধ্যায় ইফতারের আসরে বসেই পরের দোষ চর্চায় মেতে ওঠেন। দিনের বেলা ব্যবসায় ঠকানো বা মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকেন না। এ ধরনের রোজা বাহ্যিকভাবে পালিত হলেও আত্মিকভাবে অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে রহস্যময় আগন্তুকের কথোপকথন

বীর্যপাত হলে কখন রোজা ভাঙে, কখন ভাঙে না?

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৭ মার্চ ২০২৬

শবে কদর চেনার ৭ উপায়

ইবলিসের কাছ থেকে যে আমল শিখেছিলেন আবু হুরায়রা (রা.)

শবে কদরে যা করবেন, যা বর্জন করবেন

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৬ মার্চ ২০২৬

সেহরি ও ইফতারের ফজিলত

কে ছিলেন ফখরে বাঙাল আল্লামা তাজুল ইসলাম

জুলাইবিব (রা.)-এর প্রতি নবীজির গভীর ভালোবাসা