পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘হে ইমানদাররা, তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের আগের লোকদের প্রতি ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।’ (সুরা বাকারা: ১৮৩)। মুত্তাকি হওয়ার এই মহৎ যাত্রায় সিয়াম ও কিয়ামের পাশাপাশি মানবসেবা একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আমাদের সমাজে অনেক এতিম, মিসকিন ও অভাবী রয়েছেন—যারা অর্থাভাবে ভালো ইফতার বা সেহরি খেতে পারেন না। তাদের মুখে হাসি ফোটানো রমজানের অন্যতম লক্ষ্য।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি কেউ কোনো রোজাদারকে ইফতার করায়, তবে সে ওই রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে; এতে রোজাদারের সওয়াব একটুও কমবে না।’ (জামে তিরমিজি)
সমাজে অবহেলিত ও নিঃস্ব বিধবা নারীদের সাহায্য করাকে ইসলামে ইবাদততুল্য নেক কাজ বলা হয়েছে। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বিধবা ও মিসকিনের সমস্যা সমাধানের জন্য ছোটাছুটি করে, সে যেন আল্লাহর রাস্তায় লড়াইয়ে লিপ্ত অথবা রাতভর নামাজ আদায়কারী ও বছরজুড়ে রোজা পালনকারীর মতো সওয়াব পায়। ” (সহিহ্ বুখারি)
প্রকৃত মুত্তাকি তারাই যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অভাবগ্রস্ত ও বন্দীদের খাবার দেয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তারা আল্লাহর মহব্বতে অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দীদের খাবার দেয় এবং বলে—আমরা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তোমাদের খাদ্য দান করি।’ (সুরা দাহর: ৮-৯)
রমজানের এই বরকতময় সময়ে অসুস্থ মানুষের সেবা করা জান্নাত নিশ্চিত করার পথ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো মুসলিম তার কোনো ভাইয়ের রোগ দেখতে যায়, তখন সে জান্নাতের উদ্যানে ফল আহরণ করতে থাকে।’ (সহিহ্ মুসলিম)
প্রতিবেশীকে ক্ষুধার্ত রেখে একা পেটপুরে খাওয়া প্রকৃত মুমিনের কাজ নয়। হাদিসে এসেছে, ‘ওই ব্যক্তি ইমানদার নয়, যে নিজে তৃপ্তিসহকারে পেটপুরে খায়, অথচ তার পাশেই তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে।’ (সুনানে বায়হাকি)
ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা যেকোনো সংকটে মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসা ইমানের দাবি। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার বিপদগুলোর একটি দূর করে দেবে, আল্লাহ তার আখিরাতের বিপদগুলোর মধ্য থেকে একটি কঠিন বিপদ দূর করে দেবেন।’ (সহিহ্ মুসলিম)
নিজেদের অভাব থাকা সত্ত্বেও যারা অন্যদের অগ্রাধিকার দেয়, তারাই সফলকাম। মদিনার আনসাররা মুহাজিরদের যেভাবে আশ্রয় দিয়েছিল, সেই ত্যাগের মানসিকতা আমাদের মাঝে লালন করতে হবে।
লেখক: মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী, আলেম, গবেষক