হোম > ইসলাম

হজের যেসব দোয়া জানা জরুরি

কাউসার লাবীব

পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণে দোয়া করছেন এক হাজি। ছবি: সংগৃহীত

হজ মূলত মহান আল্লাহর সঙ্গে বান্দার এক নিবিড় আধ্যাত্মিক সংযোগের মাধ্যম। হজের প্রতিটি ধাপ—ইহরাম বাঁধা, কাবা শরিফ তাওয়াফ, সাফা-মারওয়া সায়ি ও আরাফাতের ময়দানে অবস্থান—সবকিছুই নির্দিষ্ট দোয়া ও জিকিরের মাধ্যমে পূর্ণতা পায়। হজের সফরকে অর্থবহ ও পুণ্যময় করতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দোয়া অর্থসহ জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

১. ইহরাম বাঁধার পর তালবিয়া

ইহরাম বাঁধার পর থেকে হজের মূল কার্যাবলি শুরু হওয়া পর্যন্ত এই তালবিয়া বেশি বেশি পাঠ করা সুন্নত।

আরবি: لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ

উচ্চারণ: লাব্বাইকাল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি‘মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাক।

অর্থ: আমি হাজির হে আল্লাহ, আমি হাজির। তোমার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা, নিয়ামত ও রাজত্ব তোমারই, তোমার কোনো শরিক নেই।

২. মসজিদে হারামে প্রবেশের দোয়া

পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণে প্রথম কদম রাখার সময় এই দোয়া পাঠ করতে হয়।

আরবি: بِسْمِ اللهِ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللهِ، اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আল্লাহুম্মাফতাহ লী আবওয়াবা রাহমাতিক।

অর্থ: আল্লাহর নামে (প্রবেশ করছি), আল্লাহর রাসুলের ওপর দরুদ ও সালাম। হে আল্লাহ, আমার জন্য তোমার রহমতের দরজা খুলে দাও।

৩. তাওয়াফের প্রতি চক্করের দোয়া

তাওয়াফ করার সময় নির্দিষ্ট কোনো দোয়া বাধ্যতামূলক না হলেও রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মাঝখানে এই দোয়া পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

আরবি: رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া ক্বিনা আযাবান্নার।

অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দাও, আখিরাতেও কল্যাণ দাও এবং জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করো।

৪. তাওয়াফ শেষে মাকামে ইবরাহিমে পড়ার দোয়া

তাওয়াফ সম্পন্ন করার পর মাকামে ইবরাহিমের পেছনে দুই রাকাত নামাজ পড়ার আগে এই আয়াত পাঠ করা সুন্নত।

আরবি: وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى

উচ্চারণ: ওয়াত্তাখিজু মিম মাক্বামি ইবরাহিমা মুসাল্লা।

অর্থ: তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে নামাজের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো।

৫. সায়ি শুরুর দোয়া

সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে দৌড়ানো বা সায়ি শুরু করার সময় সাফা পাহাড়ে উঠে কাবার দিকে মুখ করে এটি বলতে হয়।

আরবি: إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ، أَبْدَأُ بِمَا بَدَأَ اللَّهُ بِهِ

উচ্চারণ: ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআয়িরিল্লাহ, আবদাউ বিমা বাদাআল্লাহু বিহি।

অর্থ: নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আমি সেটা দিয়ে শুরু করছি, যা দিয়ে আল্লাহ শুরু করেছেন।

৬. সাফা-মারওয়া পাহাড়ে দাঁড়িয়ে দোয়া

সায়ির সময় পাহাড়ের চূড়ায় উঠে এই জিকির পাঠ করা হয়।

আরবি:

لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ. لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ، أَنْجَزَ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ.

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ইউহয়ি ওয়া ইউমিতু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িং কাদির। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু আনজাযা ওয়াদাহু ওয়া নাসারা আবদাহু ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু।

অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁরই। তিনি জীবন দেন ও মৃত্যু দেন এবং সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। তিনি তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই সব দলকে পরাজিত করেছেন।

৭. আরাফাতের ময়দানের বিশেষ দোয়া

৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের সময় নবীজি (সা.) এই দোয়া বেশি বেশি পড়তেন।

আরবি: لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িং কাদির।

অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

৮. হজের ৫ দিন ওয়াজিব ‘তাকবিরে তাশরিক’

৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রতিটি ফরজ নামাজের পর এই তাকবির পড়া ওয়াজিব।

আরবি: اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، وَلِلَّهِ الْحَمْدُ

উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

অর্থ: আল্লাহ মহান। আল্লাহ মহান। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ মহান। আল্লাহ মহান। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই।

৯. কঙ্কর বা পাথর নিক্ষেপের সময় তাকবির

মিনায় শয়তানের দিকে (জামারায়) প্রতিটি পাথর ছুড়ে দেওয়ার সময় উচ্চস্বরে এটি বলতে হয়।

আরবি: اللَّهُ أَكْبَرُ

উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার।

অর্থ: আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।

১০. মসজিদে হারাম থেকে বের হওয়ার দোয়া

হজ বা ওমরাহ শেষে অথবা নিয়মিত নামাজ শেষে মসজিদে হারাম থেকে বের হওয়ার সময় এই দোয়া পড়া সুন্নত।

আরবি: بِسْمِ اللهِ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللهِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফাদলিক।

অর্থ: আল্লাহর নামে (বের হচ্ছি), আল্লাহর রাসুলের ওপর দরুদ ও সালাম। হে আল্লাহ, আমি তোমার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি।

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৫ জুন ২০২৬

দোয়া মুমিনের শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার ও অনন্য ইবাদত

খানজাহান আলীর দিঘিতে কুমির এল যেভাবে

মসজিদে প্রবেশ করেই যে নামাজ পড়তে বলেছেন নবীজি (সা.)

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৪ জুন ২০২৬

কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পেতে যে দোয়া পড়বেন

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৩ জুন ২০২৬

নামাজের সিজদায় কোন কোন দোয়া পড়া যায়

কোনো কিছু দেখে মুগ্ধ হলে যে দোয়া পড়বেন

শিশুশ্রম প্রতিরোধে ইসলামের নির্দেশনা