একদিন নবীজি (সা.) তাঁর সাহাবিদের নিয়ে বসে আছেন। এমন সময় সেখানে এলেন আবু বকর (রা.), তাঁর চেহারায় বিষণ্নতার ছাপ। নবীজি (সা.) বললেন, ‘তোমাদের এই সঙ্গী কারও সঙ্গে ঝগড়া করে এসেছে।’
আবু বকর (রা.) সালাম দিয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমার আর উমর ইবনে খাত্তাবের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছে। আমিই প্রথমে কটু কথা বলেছি, পরে লজ্জিত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়েছি। কিন্তু তিনি আমাকে ক্ষমা করতে রাজি হননি।’
নবীজি (সা.) তিনবার বললেন, ‘আল্লাহ তোমাকে মাফ করবেন, হে আবু বকর।’
এদিকে উমর (রা.) লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে আবু বকর (রা.)-এর বাড়িতে গেলেন। কিন্তু তাঁকে পেলেন না। তখন তিনি নবীজি (সা.)-এর কাছে চলে এলেন। উমর (রা.)-কে দেখে নবীজি (সা.)-এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল।
আবু বকর (রা.) তা দেখে ভীত হয়ে নবীজি (সা.)-এর সামনে নতজানু হয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমিই প্রথমে অন্যায় করেছি।’
নবীজি (সা.) তখন বললেন, ‘যখন আল্লাহ আমাকে তোমাদের কাছে রাসুল হিসেবে পাঠিয়েছেন, তখন তোমরা সবাই আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছ, কিন্তু আবু বকর বলেছে—“আপনি সত্য বলছেন। ” সে তাঁর জানমাল সবকিছু দিয়ে আমাকে সাহায্য করেছে। তোমরা কি আমার সম্মানে আমার সঙ্গীকে ক্ষমা করবে?’
এই কথাটি তিনি দুইবার বললেন। সেদিন থেকে আর কেউ আবু বকর (রা.)-কে কখনো কোনো কষ্ট দেননি। নবীজি (সা.)-এর এই উক্তি সাহাবিদের হৃদয়ে ভালোবাসার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
তথ্যসূত্র: সহিহ্ বুখারি: ৩৬৬১