যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫ দফার শান্তি পরিকল্পনা হাতে পাওয়ার বিষয়টি অবশেষে নিশ্চিত করেছে তেহরান। তবে এই পরিকল্পনাকে ‘অত্যন্ত কঠিন ও অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেছে দেশটির একটি উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক সূত্র। সে সঙ্গে প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসা এই মুহূর্তে ‘যৌক্তিক’ নয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রটি আজ বুধবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানি সূত্রটি জানিয়েছে, পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে এই প্রস্তাব সম্পর্কে যা বলা হচ্ছে, বাস্তবে তার সঙ্গে মূল নথির কোনো মিল নেই। সূত্রটি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, এই পরিকল্পনা কাগজে-কলমেও সুন্দর নয়। প্রস্তাবটিকে ‘প্রতারণামূলক’ এবং এর উপস্থাপনাকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলেও বর্ণনা করেছে ওই সূত্র।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ক্রমাগত তাদের লক্ষ্য বা শর্ত পরিবর্তন করছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান। তবে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা কী চায় এবং কোন বিষয়গুলো তারা প্রত্যাখ্যান করবে, সে সম্পর্কে তাদের পরিষ্কার ধারণা রয়েছে। তারা কোনো চাপে পড়ে নিজেদের অবস্থান থেকে সরবে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের ‘পরোক্ষ আলোচনা’ হওয়ার খবরও অস্বীকার করেছে সূত্রটি। তবে তারা স্বীকার করেছে যে, বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান চলছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিও তেহরানের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এক জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাতে তারা জানিয়েছে, ইরান কেবল তখনই যুদ্ধ শেষ করবে, যখন তারা নিজেরা সেই সিদ্ধান্ত নেবে এবং তাদের নিজস্ব শর্তাবলি পূরণ হবে।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যুদ্ধ বন্ধের জন্য পাঁচটি শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো—শত্রুপক্ষের পক্ষ থেকে চালানো সব ধরনের ‘আগ্রাসন ও গুপ্তহত্যা’ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে; ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর যেন ভবিষ্যতে আর কখনো যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া না হয়, তা নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর মেকানিজম বা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে; যুদ্ধের ফলে হওয়া সব ধরনের ক্ষয়ক্ষতির জন্য গ্যারান্টিসহ সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত ‘যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ’ প্রদান করতে হবে; কেবল ইরানের সঙ্গে নয়, বরং পুরো অঞ্চলে সক্রিয় থাকা সব প্রতিরোধ গোষ্ঠীর (হিজবুল্লাহ, হুতি) বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার এবং কর্তৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।
উল্লেখ্য, ওয়াশিংটনের দেওয়া ১৫ দফার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি তেহরানের কাছে পৌঁছে দেয় পাকিস্তান। আল–জাজিরার সাংবাদিক ওসামা বিন জাভেদ জানান, পাকিস্তানের কয়েকটি সূত্র আল–জাজিরাকে জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে একটি নথি দেওয়া হয়েছিল। সেই নথিই পাকিস্তান ইরানের কাছে উপস্থাপন করেছে।