হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

উত্তর কোরিয়ার মিসাইল ব্যবহার করছে ইরান: নিরাপত্তা বিশ্লেষক

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

জেরুজালেমের আকাশে ইরানের ছোড়া মিসাইল। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের একটি বড় অংশ সরাসরি উত্তর কোরিয়া থেকে কেনা অথবা তাদের প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করেছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টেক্সাসের অ্যাঞ্জেলো স্টেট ইউনিভার্সিটির নিরাপত্তা বিভাগের অধ্যাপক ব্রুস বেচটল এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, ‘উত্তর কোরিয়া হলো বিক্রেতা আর ইরান হলো ক্রেতা।’

গত শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরান ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়াতে অবস্থিত মার্কিন ও ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। অধ্যাপক বেচটলের মতে, এই হামলায় ‘মুসুদান’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি জানান, ২০০৫ সালেই ইরান উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে ১৯টি মুসুদান ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করেছিল।

চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ইরান থেকে ডিয়েগো গার্সিয়ার দূরত্ব প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার। অথচ গত মাসে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছিলেন, তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সর্বোচ্চ ২ হাজার কিলোমিটার। এই হামলা ইরানের সেই দাবিকে সরাসরি মিথ্যা প্রমাণ করেছে।

বেচটল আরও জানান, ইরান প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুকে লক্ষ্য করে যেসব স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো নিক্ষেপ করছে, সেগুলো মূলত ‘কিয়াম’ সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীল, যা উত্তর কোরিয়ার সহায়তায় তৈরি। এ ছাড়া ইরানের তথাকথিত ‘নতুন’ শাহাব-৩ ক্ষেপণাস্ত্রটি আসলে উত্তর কোরিয়ার ‘নো ডং’ সিস্টেমের হুবহু নকল।

নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে উত্তর কোরিয়া প্রায় ১৫০টি ‘নো ডং’ সিস্টেম ইরানকে সরবরাহ করেছিল। পরবর্তীতে এই প্রযুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে ইরান তাদের নিজ ভূখণ্ডে ‘নো ডং’ তৈরির কারখানা স্থাপনের জন্য পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে চুক্তি করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান কেবল ক্ষেপণাস্ত্রই কিনছে না, বরং উত্তর কোরিয়ার সহায়তায় নিজস্ব ‘ইমাদ’ এবং ‘গাদর’ মিসাইল সিস্টেমও তৈরি করেছে। এই সিস্টেমগুলো ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে ব্যবহৃত হচ্ছে। বেচটল এই লেনদেনের প্রক্রিয়াটি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করে বলেন, উত্তর কোরিয়া এসব মারণাস্ত্রের প্রতিটি যন্ত্রাংশ তৈরি করে দেয় আর ইরান তার বিনিময়ে ‘নগদ অর্থ এবং তেল’ সরবরাহ করে।

ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য চুক্তিতে আছে যেসব বিষয়

চুক্তিতে পৌঁছেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, সই শুক্রবারে

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে ‘ইলেকট্রনিক্যালি’

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য চুক্তির সঙ্গে ২০১৫ সালের চুক্তির যত মিল–অমিল

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের প্রত্যাখ্যান—যুদ্ধবিরতি চুক্তি আজ আদৌ হবে কি

রোববারই চুক্তি সই হবে—ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান আইআরজিসির

জুলাই মাসে দাফন করা হবে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে

হামলা না করার শর্তে ইরানকে বিপুল টাকা দিয়েছে আমিরাত, ‘ভিত্তিহীন খবর’ বলল আবুধাবি

যুদ্ধ বন্ধে ‘চুক্তির এত কাছাকাছি আর কখনোই আসেনি’ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, কী আছে এতে