ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ব্যবহৃত একটি বিমান ধ্বংস করেছে। সোমবার (১৬ মার্চ) এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী (আইএএফ) জানায়, ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে বিমানটি ধ্বংস করা হয়।
হিব্রু ভাষায় প্রকাশিত এক বার্তায় আইএএফ দাবি করে, বিমানটি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সামরিক কর্মকর্তারা ব্যবহার করতেন। তাদের মতে, এটি ইরানের আঞ্চলিক মিত্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের কাজে ব্যবহৃত হতো।
ইসরায়েলের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিমান ধ্বংস হওয়ায় ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে তথাকথিত ‘অ্যাক্সিস’ দেশ ও গোষ্ঠীগুলোর যোগাযোগ ও সামরিক সমন্বয়ের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ইসরায়েল যে ‘অ্যাক্সিস’ শব্দটি ব্যবহার করেছে, তা মূলত ইরানের নেতৃত্বাধীন তথাকথিত ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-কে বোঝায়। ইরানকে অ্যাক্সিস বা অক্ষ বিবেচনা করে এর চারপাশে থাকা শক্তিগুলো হলো—লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি এবং ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী।
এই হামলার ঘটনা ঘটেছে এমন এক সময়, যখন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। ওই হামলায় তাঁর বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ পরিবারের কয়েক সদস্য নিহত হন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও কয়েক সপ্তাহ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অন্তত আরও তিন সপ্তাহের জন্য সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনে তারপরেও অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে।