ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইসফাহানের আকাশে একটি অত্যাধুনিক মার্কিন-ইসরায়েলি ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। আজ মঙ্গলবার ভোরে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে তারা। ড্রোনটিকে ‘আগ্রাসী শত্রু’র সম্পদ হিসেবে বর্ণনা করে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট জানিয়েছে, ড্রোনটি ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘনের চেষ্টা করছিল।
আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূপাতিত ড্রোনটি নজরদারি এবং নিখুঁত হামলার জন্য পরিচিত বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ড্রোন। সামরিক জনসংযোগ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি নিয়ে ইরান এ পর্যন্ত মোট ১৪৬টি শত্রু ড্রোন ধ্বংস করার রেকর্ড গড়ল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একেকটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের নির্মাণ খরচ প্রায় ৩ কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৩৩০ কোটি টাকার বেশি)।
ইরানের ইসনা নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনার পাশাপাশি ইরানের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী। মারকাজি প্রদেশের মাহাল্লাত শহরে গত রাতে চালানো এক ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাহাল্লাত শহরের তিনটি আবাসিক ভবনে সরাসরি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে ভবনগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং উদ্ধারকাজ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জঞ্জান শহরে অবস্থিত বিখ্যাত ধর্মীয় কেন্দ্র ‘আজম হুসাইনিয়া’-তেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ফার্স নিউজ এজেন্সি। হামলায় কেন্দ্রটির পবিত্র সোনালি গম্বুজ এবং একটি মিনার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তেহরান এবং ইসফাহানসহ ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনাটি ইরানের সামরিক সক্ষমতার জানান দিলেও, আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি মধ্যপ্রাচ্যে এক বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানি সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমা রক্ষায় তারা যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত এবং প্রতিটি হামলার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।