সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গোপন আস্তানায় অবস্থানরত ৫০০-এর বেশি মার্কিন সেনার ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। আজ শনিবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি এই তথ্য জানিয়েছেন।
আল জাজিরা ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত জোলফাগারির বিবৃতির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরানি বাহিনী দুবাইয়ের দুটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ওই স্থানগুলোতে ৫০০-এর বেশি মার্কিন সেনা লুকিয়ে ছিল। এই হামলায় তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, দুবাইয়ের একটি হোটেল এবং উপকূলীয় এলাকায় মার্কিন ড্রোন ইউনিটের কর্মকর্তাদের জমায়েত লক্ষ্য করে কামিকাজে বা আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া কুয়েতের আল-শুয়াইখ বন্দরে অবস্থানরত ছয়টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজেও কাদের-৩৮০ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি।
মার্কিন সেনাদের ‘আক্রমণাত্মক সেনাবাহিনী’ হিসেবে অভিহিত করে জোলফাগারি বলেন, ‘আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তিশালী আক্রমণ এবং এ অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ধ্বংস হওয়ার পর তারা প্রাণভয়ে পালিয়েছে এবং ঘাঁটির বাইরে আত্মগোপন করেছে।’
এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গতকাল জি-৭ বৈঠক শেষে জানান, দুবাইয়ে মার্কিন সেনাদের সহায়তার জন্য রাখা একটি ‘ইউক্রেনীয় ড্রোন-প্রতিরোধী ব্যবস্থা’র গুদাম ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ইরান দাবি করেছে, তারা সরাসরি সেনাসদস্যদের লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ধারাবাহিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে। তেহরানের দাবি, তারা এ অঞ্চল থেকে মার্কিন উপস্থিতি সম্পূর্ণ নির্মূল না করা পর্যন্ত এই অভিযান চালিয়ে যাবে।