হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য চুক্তিতে আছে যেসব বিষয়

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ফের আক্রান্ত হলে ইরান ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে। অর্থাৎ, বোমা তৈরির সক্ষমতা অর্জন করবে। ছবিতে ইরানের সেন্ট্রিফিউজ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, দুই দেশ যুদ্ধ অবসান, ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এখনই নির্ধারিত হয়নি। তা আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে চুক্তি হতে পারে আগামী শুক্রবার।

এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি তথা সমঝোতা স্মারকের (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) চূড়ান্ত খসড়ায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে শুরু করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উভয় পক্ষের সম্মতির পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে।

ইরানি ওই কর্মকর্তা বলেন, খসড়া সমঝোতা স্মারকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো রয়েছে—

হরমুজ প্রণালি

  • ইরান অবিলম্বে সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে।
  • একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেবে।
  • যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

আর্থিক বিষয়

  • চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না।
  • চূড়ান্ত চুক্তির পর, পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।
  • নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে, যাতে তেহরান তেল বিক্রি করতে পারে এবং আয় গ্রহণ করতে পারে।
  • যুক্তরাষ্ট্র ইরানের স্থগিত রাখা ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড় করার বিষয়ে সম্মত হবে। এতে সরাসরি নগদ স্থানান্তর, আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং আর্থিক ঋণসুবিধার ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
  • ওয়াশিংটন তার আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তুত করবে, যা ৬০ দিনের মধ্যে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ও চূড়ান্ত করা হবে।

পারমাণবিক ইস্যু

  • তেহরান সম্মত হবে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং সংগ্রহও করবে না।
  • চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা বজায় রাখবে এবং অতিরিক্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক স্থাপনার সম্প্রসারণ থেকে বিরত থাকবে।
  • ভবিষ্যতের একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ইরানের নিজস্ব ভূখণ্ডেই উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত লঘু (ডাইলিউট) করার অনুমতি দেবে।
  • ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়া সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনা করা হবে এবং চূড়ান্ত চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

চুক্তিতে পৌঁছেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, সই শুক্রবারে

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে ‘ইলেকট্রনিক্যালি’

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য চুক্তির সঙ্গে ২০১৫ সালের চুক্তির যত মিল–অমিল

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের প্রত্যাখ্যান—যুদ্ধবিরতি চুক্তি আজ আদৌ হবে কি

রোববারই চুক্তি সই হবে—ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান আইআরজিসির

জুলাই মাসে দাফন করা হবে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে

হামলা না করার শর্তে ইরানকে বিপুল টাকা দিয়েছে আমিরাত, ‘ভিত্তিহীন খবর’ বলল আবুধাবি

যুদ্ধ বন্ধে ‘চুক্তির এত কাছাকাছি আর কখনোই আসেনি’ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, কী আছে এতে

চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছেন মোজতবা—দাবি ট্রাম্পের, ইরান বলছে ‘না’