হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদির আরও ৭ বছরের কারাদণ্ড

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

শান্তিতে নোবেলজয়ী মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মাদি। ছবি: এএফপি

শান্তিতে নোবেলজয়ী ইরানের মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদিকে আরও সাত বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে অনশন শুরু করার পর তাঁর বিরুদ্ধে নতুন এই সাজা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তাঁর সমর্থকেরা। দেশজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হাজারো মানুষের মৃত্যুর পর সব ধরনের ভিন্নমত দমনে তেহরান যখন আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তখনই এই রায় এল।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান বলছে, নার্গিস মোহাম্মদির নতুন সাজাগুলো এমন এক সময়ে দেওয়া হলো, যখন ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক হামলার হুমকি দেওয়ার পর এই আলোচনা আরও গুরুত্ব পেয়েছে।

নার্গিস মোহাম্মদির আইনজীবী মোস্তফা নিলির বরাতে তাঁর সমর্থকেরা জানান, শনিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরের একটি আদালত এই রায় দেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোস্তফা নিলি লেখেন, তাঁকে ‘সমাবেশ ও যোগসাজশের’ অভিযোগে ছয় বছরের কারাদণ্ড, প্রচারণার অভিযোগে দেড় বছর এবং দুই বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

আইনজীবী আরও জানান, এর পাশাপাশি মোহাম্মদিকে রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ৭৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে খোসফ শহরে দুই বছরের অভ্যন্তরীণ নির্বাসনের সাজাও দেওয়া হয়েছে।

তবে এই সাজার ব্যাপারে ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

নার্গিসের সমর্থকদের দাবি, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে নার্গিস মোহাম্মদি অনশনে রয়েছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে মাশহাদে আয়োজিত একটি স্মরণসভা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৪৬ বছর বয়সী আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী খোসরো আলিকোর্দির স্মরণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নার্গিস মোহাম্মদি সেখানে আলিকোর্দি ও অন্যদের জন্য বিচার দাবি করে স্লোগান দিচ্ছিলেন।

তবে এর আগেই তাঁর সমর্থকেরা সতর্ক করে বলেছিলেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চিকিৎসার কারণে দেওয়া সাময়িক মুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হতে পারে। যদিও সেই মুক্তি ছিল তিন সপ্তাহের জন্য, পরে তা দীর্ঘায়িত হয়। ধারণা করা হয়, অধিকারকর্মী ও পশ্চিমা দেশগুলোর চাপের কারণেই তাঁকে তখন মুক্ত রাখা হয়েছিল। এমনকি জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধ চলার সময়েও তিনি মুক্ত ছিলেন।

মুক্ত থাকার সময়েও নার্গিস মোহাম্মদি আন্দোলন চালিয়ে যান। তিনি প্রকাশ্যে বিক্ষোভে অংশ নেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কথা বলেন। এমনকি তেহরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারের সামনেও তিনি প্রতিবাদ করেন।

ইরানে নারীদের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ২০২৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান নার্গিস মোহাম্মদি। তাঁর অনুপস্থিতিতে পুরস্কার গ্রহণ করেন তাঁর সন্তানেরা।

একসময় ১৬ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদি মুক্তি পেয়ে কারাগারের নিঃসঙ্গতার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন এবং দুটি বই ও একটি তথ্যচিত্র প্রকাশ করেন। তবে ২০২১ সালে পুনরায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে ফিরে যান।

তিনি এখন পর্যন্ত ১৩ বার গ্রেপ্তার হয়েছেন, পাঁচবার বিচারের সম্মুখীন হয়েছেন এবং ৩২ বছরের বেশি কারাদণ্ড ও ১৫৪ বার বেত্রাঘাতের সাজা পেয়েছেন। নার্গিস মোহাম্মদির মুক্তি নিয়ে তাঁর সমর্থকেরা বলছেন, ইরানের বর্তমান দমনমূলক পরিস্থিতি থেকে মুক্তির এই ক্ষণস্থায়ী মুহূর্ত কেবলই একটি বড় সংগ্রামের সূচনা।

চুক্তিতে পৌঁছেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, সই শুক্রবারে

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে ‘ইলেকট্রনিক্যালি’

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য চুক্তির সঙ্গে ২০১৫ সালের চুক্তির যত মিল–অমিল

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের প্রত্যাখ্যান—যুদ্ধবিরতি চুক্তি আজ আদৌ হবে কি

রোববারই চুক্তি সই হবে—ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান আইআরজিসির

জুলাই মাসে দাফন করা হবে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে

হামলা না করার শর্তে ইরানকে বিপুল টাকা দিয়েছে আমিরাত, ‘ভিত্তিহীন খবর’ বলল আবুধাবি

যুদ্ধ বন্ধে ‘চুক্তির এত কাছাকাছি আর কখনোই আসেনি’ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, কী আছে এতে

চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছেন মোজতবা—দাবি ট্রাম্পের, ইরান বলছে ‘না’