ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দুর্গম এলাকায় দুই দিন ধরে নিখোঁজ থাকা এক মার্কিন বিমান সেনাকে উদ্ধারের জন্য একটি বড় ধরনের সামরিক অপারেশন পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েকশ কমান্ডো এবং বিশেষ বাহিনীর সদস্য এই অভিযানে অংশ নেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করলেও ইরান দাবি করেছে, তারা এই অভিযানে অংশ নেওয়া একটি মার্কিন আকাশযান ভূপাতিত করেছে।
পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, ভূপাতিত একটি মার্কিন বিমানের একজন ক্রু সদস্য গত দুই দিন ধরে ইরানের অভ্যন্তরে আত্মগোপন করে ছিলেন। তাঁকে খুঁজে বের করতে এবং নিরাপদে সরিয়ে নিতে মার্কিন স্পেশাল অপারেশন ফোর্স একটি বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করে।
ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক জন হেন্ড্রেন জানিয়েছেন, অভিযানটি রাতের অন্ধকারে শুরু হলেও ইরানি বাহিনীর সঙ্গে প্রচণ্ড গোলাগুলি শুরু হওয়ায় তা দিনের আলো পর্যন্ত গড়ায়। মার্কিন কমান্ডোরা সরাসরি ইরানি ভূখণ্ডের ভেতরে প্রবেশ করে ওই সেনাকে উদ্ধার করে এবং হেলিকপ্টারে করে দেশের বাইরে নিয়ে যায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একে একটি ‘বিরাট সাফল্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, ওই ক্রুর অবস্থান নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি আহত হয়েছেন, তবে ঠিক হয়ে যাবে।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তারা মার্কিন বাহিনীর এই অভিযানকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে একটি ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে ইসফাহান প্রদেশের একটি মাঠ থেকে ঘন ধোঁয়া বের হতে দেখা যাচ্ছে।
তেহরান থেকে মোহামেদ ভ্যাল জানিয়েছেন, দক্ষিণ ইরানের দেহদাশ্ত শহরে রাতভর ব্যাপক সংঘর্ষ এবং অন্তত দুটি বিমান হামলার শব্দ পাওয়া গেছে। এই সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানি গণমাধ্যমগুলো এই অভিযানকে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি ‘ব্যর্থ প্রচেষ্টা’ হিসেবে প্রচার করছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, অভিযানটি পুরোপুরি পরিকল্পনা অনুযায়ী চলেনি। শত্রুঘাঁটির ভেতরে সরাসরি গুলি বিনিময়ের ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে অস্থিরতার মাঝে ইরানের মাটিতে সরাসরি এই মার্কিন অনুপ্রবেশ পরিস্থিতিকে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে। তেহরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন বিমান সেনার উদ্ধারের বিষয়টি স্বীকার করেনি, তবে ইসফাহান এবং দেহদাশ্তের পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে বলে জানা গেছে।