হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

আমিরাতে ১০০ কোটি টাকার লটারি জিতলেন নেপালের তায়েব খান, ভাগ দেবেন বন্ধুদের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

এক লটারিতে ভাগ্য বদলে গেল তায়েব খানের। ছবি: সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) কর্মরত এক নেপালি নিরাপত্তা কর্মীর ভাগ্য বদলে গেছে রাতারাতি। লটারিতে তিনি ৩০ মিলিয়ন দিরহাম (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১০০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা) জিতেছেন। ২৬ বছর বয়সী ওই ভাগ্যবানের নাম তোয়াব খান। দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রমের কাজ করা এই যুবক হুট করেই একটি টিকিট কিনেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবনকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের গণমাধ্যম খালিজ টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তোয়াব খান ‘দ্য ইউএই লটারি’র ‘লাকি ডে’ ড্র-তে এই বিশাল অঙ্কের পুরস্কার জেতেন। তায়েব জানিয়েছেন, তিনি নিজে ড্র অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখেননি। পরবর্তীতে একটি ই-মেইলের মাধ্যমে খবর পান। প্রথমে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে না পেরে তিনি বেশ কয়েকবার ফলাফলটি যাচাই করেন।

লটারি জয়ের প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তায়েব খান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এর আগেও আমি ছোটখাটো পুরস্কারের জন্য এই ধরনের ই-মেইল পেয়েছিলাম, তাই প্রথমে বিষয়টি নিয়ে তেমন ভাবিনি। কিন্তু যখন আমি ই-মেইলটি খুললাম এবং ৩০ মিলিয়ন দিরহাম দেখলাম, তখন হাত-পা কাঁপছিল। মনে হচ্ছিল আমি কোনো স্বপ্ন দেখছি।’

তায়েব জানান, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ তিনি একাই পাচ্ছেন না। মূলত পাঁচ বন্ধু মিলে নিয়মিত টাকা জমিয়ে যৌথভাবে এই লটারির টিকিটগুলো কিনতেন। সেই নিয়ম অনুযায়ী, এই জ্যাকপটের টাকা তাঁদের পাঁচজনের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হবে। ফলে প্রত্যেকে পাবেন ৬০ লাখ দিরহাম (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২০ কোটি ৮ লাখ টাকা)।

বন্ধুদের সঙ্গে টিকিট কেনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তায়েব বলেন, ‘আমরা মোট পাঁচজন ছিলাম। আমরা টাকা জমিয়ে নিয়মিত টিকিট কিনতাম। প্রতি সপ্তাহে আমাদের মধ্যে একেকজন পালা করে লটারির নম্বরগুলো বেছে নিত।’

লটারি জেতার পর তায়েব প্রথম কথা বলেন তাঁর চাচার সঙ্গে। তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, ‘আমার চাচার কারণেই আমি প্রথম কাজের সন্ধানে এই দেশে (ইউএই) এসেছিলাম। যখন আমি তাঁকে জানালাম যে আমরা কত টাকা জিতেছি, তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে যান এবং তাঁর চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছিল।’

এই লটারি জয়ের পর তায়েব নিরাপত্তা রক্ষীর চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন তিনি ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করতে চান। এ ছাড়া পরিবারের জন্য একটি সুন্দর বাড়ি তৈরি করা এবং নিজের কিছু দীর্ঘদিনের অপূর্ণ শখ পূরণ করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। আর তাঁর এই শপিং তালিকার সবার ওপরে রয়েছে একটি জিপ গাড়ি এবং একটি রোলেক্স ঘড়ি।

তায়েব বলেন, ‘আমার প্রথম লক্ষ্য সব সময় ছিল পরিবারের জন্য একটি ভালো বাড়ি তৈরি করা। এখন আমি একটি ভালো জায়গায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সংবলিত একটি স্বপ্নের বাড়ি তৈরি করতে পারব।’

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি চার বছর ধরে অন্যের অধীনে চাকরি করছি। এখন আমি পরবর্তী ধাপে যেতে চাই। আমি উদ্যোক্তা হতে চাই এবং বিনিয়োগের বিভিন্ন ক্ষেত্রগুলো ঘুরে দেখতে চাই।’

বাকি অর্থ দিয়ে তায়েব তাঁর সব ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ করবেন, দেশে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের সাহায্য করবেন এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করবেন। আবারও কোনো নিরাপত্তা কর্মীর কাজে না ফিরে তিনি নিজ দেশেই ছোটখাটো একটি ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবছেন।

লটারিতে এই ধরনের বড় জয় খুবই বিরল হলেও, তায়েবের এই গল্পটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে উন্নত জীবনের আশায় থাকা লাখো প্রবাসী শ্রমিকের মাঝে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার করেছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে ‘ইলেকট্রনিক্যালি’

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য চুক্তির সঙ্গে ২০১৫ সালের চুক্তির যত মিল–অমিল

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের প্রত্যাখ্যান—যুদ্ধবিরতি চুক্তি আজ আদৌ হবে কি

রোববারই চুক্তি সই হবে—ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান আইআরজিসির

জুলাই মাসে দাফন করা হবে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে

হামলা না করার শর্তে ইরানকে বিপুল টাকা দিয়েছে আমিরাত, ‘ভিত্তিহীন খবর’ বলল আবুধাবি

যুদ্ধ বন্ধে ‘চুক্তির এত কাছাকাছি আর কখনোই আসেনি’ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, কী আছে এতে

চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছেন মোজতবা—দাবি ট্রাম্পের, ইরান বলছে ‘না’

ওমান সাগরে এবার হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে তেল ট্যাংকার বিকল করল মার্কিন বাহিনী