মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ। তিনি এই পরিস্থিতিকে বিশ্ব নৌ চলাচল শিল্পের জন্য একটি ‘বিরাট চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আইএমওর প্রধান বলেছেন, ‘২০ হাজার নাবিক বর্তমানে হরমুজ প্রণালির ভেতরে আটকা পড়ে আছেন এবং প্রায় ২ হাজার জাহাজ সেখান থেকে বের হতে পারছে না। এসব জাহাজ সেখানে যত বেশি সময় অবস্থান করবে, নাবিকদের মানসিক চাপ ও ক্লান্তি তত বাড়বে। একই সঙ্গে জাহাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় রসদ ও উপকরণের ঘাটতিও প্রকট হয়ে উঠছে।’
আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ জানান, এই সংকটে বিমা কোম্পানিগুলো কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা দায়ভার নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। বেশির ভাগ কোম্পানি হয় চুক্তি বাতিল করেছে, অথবা চলাচলের জন্য আকাশচুম্বী প্রিমিয়াম দাবি করছে। ফলে জাহাজমালিকেরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালির আশপাশের দেশগুলো ত্রাণ সহায়তা প্রদান করায় সম্ভাব্য মানবিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হচ্ছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য আইএমও একটি ‘মানবিক করিডর’ তৈরির জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছে, যাতে জাহাজগুলো নিরাপদে ওই এলাকা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধজাহাজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ পাহারা দেওয়ার কথা বললেও তাঁর পরিকল্পনাকে ‘ভঙ্গুর’ বলে অভিহিত করেছেন আইএমওর প্রধান। তিনি বলেন, এই পদ্ধতিতে মার্চেন্ট শিপ বা বাণিজ্যিক জাহাজগুলো লক্ষ্যবস্তু হবে না এবং নিরীহ নাবিকেরা প্রাণ হারাবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।