ইরানি ড্রোনের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে এ সহায়তার বিনিময়ে তিনি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থ এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির চান।
জেলেনস্কি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ইউক্রেন ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশে বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে। প্রতিটি দলে কয়েক ডজন সামরিক ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। এই দলগুলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ড্রোন প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মূল্যায়ন করবে এবং কীভাবে নিখুঁতভাবে ইরানি ড্রোন ধ্বংস করতে হয়, তার বাস্তব প্রদর্শনী দেখাবে।
জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইউক্রেন অভিজ্ঞতার বিনিময়ে অর্থ ও প্রযুক্তিতে আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা শেয়ার করছি, কিন্তু ইউক্রেনের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আমাদেরও পর্যাপ্ত তহবিল এবং আধুনিক প্রযুক্তি সহায়তা প্রয়োজন।’ রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেন যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তা এখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত মূল্যবান বলে মনে করা হচ্ছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে কয়েক বছর ধরে ইরানের তৈরি কামিকাজে ড্রোন ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী এই ড্রোনগুলো ভূপাতিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেছে। এখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, যারা ইরানের সম্ভাব্য ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে, তারা ইউক্রেনের এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আগ্রহী।
বিশ্লেষকদের মতে, জেলেনস্কির এই উদ্যোগ একদিকে যেমন মধ্যপ্রাচ্যে ইউক্রেনের কূটনৈতিক প্রভাব বাড়াবে, অন্যদিকে যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহের একটি নতুন পথ তৈরি করবে।