ইউরোপজুড়ে সরবরাহের উদ্দেশে ইতালির মধ্যাঞ্চল থেকে রওনা দেওয়া একটি ট্রাকসহ ৪ লাখের বেশি কিটক্যাট চকলেট বার চুরি হয়ে গেছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নেসলে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কোম্পানির তথ্যমতে, ট্রাকটিতে মোট ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৯৩টি নতুন ধরনের কিটক্যাট চকলেট বার ছিল, যার ওজন প্রায় ১২ টন। এটি ইতালি থেকে প্রাথমিকভাবে পোল্যান্ডে যাওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ট্রাকটি নিখোঁজ হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত ট্রাক কিংবা চকলেটগুলোর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ঠিক কোথায় এই চুরির ঘটনা ঘটেছে, সেই বিষয়েও বিস্তারিত জানায়নি নেসলে।
কিটক্যাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চুরি হওয়া প্রতিটি চকলেট বারের সঙ্গে একটি বিশেষ ব্যাচ কোড রয়েছে। কেউ যদি সেই কোড স্ক্যান করে, তবে তাঁকে কিটক্যাটের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশনা দেওয়া হবে। মূলত এভাবে চুরি হওয়া পণ্য শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে কিটক্যাটের একজন মুখপাত্র রসিকতার ছলে বলেছেন, ‘আমরা সব সময় মানুষকে কিটক্যাট নিয়ে একটু বিরতি নেওয়ার কথা বলি। কিন্তু মনে হচ্ছে চোরেরা বিষয়টিকে খুবই আক্ষরিকভাবে নিয়েছে এবং ১২ টনের বেশি চকলেট চুরি করে বিরতি নিয়েছে।’ তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, পণ্যবাহী যানবাহন থেকে চুরি এখন ব্যবসায়িক খাতে একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং চোরেরা ক্রমেই আরও আধুনিক কৌশল ব্যবহার করছে।
এই বিষয়ে এক প্রতিবেদনে রোববার (২৯ মার্চ) যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, গত বছর নেসলে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। প্রতিষ্ঠানটি ব্যয় কমাতে এখন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। এর অংশ হিসেবে প্রায় ১২ হাজার প্রশাসনিক বা ‘হোয়াইট-কলার’ কর্মী এবং আরও ৪ হাজার উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার কর্মী ছাঁটাইয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নেসলের তথ্যমতে, ২০২৭ সালের মধ্যে এই পদক্ষেপগুলো বছরে প্রায় এক বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ সাশ্রয় করতে সহায়তা করবে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোম্পানিটির প্রায় ২ লাখ ৭৭ হাজার কর্মী রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে টিকে থাকতে এই ধরনের কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।