ব্রিটেনে এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্ত্রী গোপনে বাড়ির ভেতরে ক্যামেরা বসিয়ে তাঁর পাসওয়ার্ড ধারণ করে প্রায় ১৮০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের বিটকয়েন আত্মসাৎ করেছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ২ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকারও বেশি। সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস জানিয়েছে, বর্তমানে এই মামলাটি ব্রিটিশ হাইকোর্ট অব জাস্টিসে বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযোগকারী ৪৪ বছর বয়সী ব্যবসায়ী পিং ফাই ইউয়েন আদালতে দাবি করেছেন, তাঁর সঙ্গে বিচ্ছেদের আলোচনা চলাকালে তাঁর স্ত্রী ফুন ইয়াং লি গোপনে তাঁর ক্রিপ্টোকারেন্সি দখল করেন। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ব্রাইটনের অভিজাত এক সড়কে অবস্থিত তাঁদের পারিবারিক বাসভবনে গোপনে বেশ কিছু সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল, যাতে ইউয়েন কোথায় বসেন এবং কোথায় তাঁর নিরাপত্তা পাসওয়ার্ড রাখেন—সেগুলো ধারণ করা যায়।
ইউয়েনের দাবি, তাঁর বিটকয়েন একটি ব্লকচেইন ঠিকানায় সংরক্ষিত ছিল এবং সেটিতে প্রবেশের জন্য ব্যবহৃত হতো একটি ‘কোল্ড ওয়ালেট’—যা ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত নয় এমন একটি নিরাপদ ডিভাইস। ওই ডিভাইসটি ছয় অঙ্কের পিন দিয়ে সুরক্ষিত ছিল। তবে মূল নিরাপত্তা ছিল একটি ‘সিড ফ্রেজ’, যা ২৪টি শব্দের সমন্বয়ে তৈরি একটি মাস্টার পাসওয়ার্ড। এই সিড ফ্রেজ জানলে যে কেউ অন্য ডিভাইসে একই ওয়ালেট পুনরায় তৈরি করতে পারে।
ইউয়েন জানান, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে তাঁর বড় মেয়ে তাঁকে সতর্ক করেছিলেন—তাঁর মা বিটকয়েন দখলের চেষ্টা করছেন। এরপর তিনি বাড়িতে গোপনে অডিও রেকর্ডিং যন্ত্র বসান। তাঁর দাবি, ওই রেকর্ডিংগুলোতে স্পষ্টভাবে শোনা যায় তাঁর স্ত্রী কীভাবে সিসিটিভি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন এবং বিটকয়েন স্থানান্তরের কথাও বলছেন। এক রেকর্ডিংয়ে ফুন ইয়াং লিকে বলতে শোনা গেছে—‘বিটকয়েন আমার কাছে এসেছে, কিন্তু বোঝা যাবে কি যে তুমি এটি নিয়েছ?’ আরেকটিতে শোনা যায়, ‘ঠিক আছে, সবই নিয়ে নাও।’
আদালতে আরও বলা হয়, ইউয়েনের স্ত্রী বিপুল অঙ্কের এই অর্থের কারণে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে পুলিশের নজরে পড়ার ঝুঁকি নিয়েও আলোচনা করেছিলেন। ইউয়েনের অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী তাঁর বিটকয়েন ৭১টি ভিন্ন ব্লকচেইন ঠিকানায় স্থানান্তর করেছেন এবং এতে তার শ্যালিকা লাই ইয়াং লি সহায়তা করে থাকতে পারেন।
২০২৩ সালের আগস্টে যখন ইউয়েন জানতে পারেন তাঁর বিটকয়েন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তখন তিনি তাঁর স্ত্রীর মুখোমুখি হন। আদালতকে জানানো হয়, সেই ঘটনার জেরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে তিনি স্ত্রীকে শারীরিক আঘাত ও হামলার দুটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।
তবে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ইউয়েন বিষয়টি পুলিশকে জানালে তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কয়েকটি ঘড়ি, দশটি কোল্ড ওয়ালেট এবং পাঁচটি রিকভারি সিড জব্দ করে।
বিচারক মিস্টার জাস্টিস কোটার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বলেছেন, ইউয়েন মামলায় জয়ের খুব উচ্চ সম্ভাবনা দেখাতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘ইউয়েন আগেই সতর্ক হয়েছিলেন। অডিও ট্রান্সক্রিপ্টগুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং তল্লাশিতে বিটকয়েন স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও পাওয়া গেছে।’
ইউয়েন আদালতের কাছে তাঁর বিটকয়েন ফেরত বা সমপরিমাণ অর্থ আদায়ের নির্দেশনা এবং তাঁর স্ত্রী ও শ্যালিকার ক্রিপ্টো সম্পদের ওপর বিশ্বব্যাপী সম্পদ জব্দের আদেশ চেয়েছেন। বিচারক দ্রুত বিচার শুরুর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছেন। কারণ বিটকয়েনের নিরাপত্তা ঝুঁকি ও মূল্যের ওঠানামা উভয়ই বড় বিষয়।