আজ থেকে ৩০ বছর আগে ১৯৯৪ সালে প্রয়াত হয়েছেন বলকান অঞ্চলের রহস্যময় অন্ধ ভবিষ্যদ্বক্তা বাবা ভাঙ্গা। কিন্তু তাঁর একটি পুরোনো ভবিষ্যদ্বাণী আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী বলছে, ২০২৬ সাল তথা চলতি বছরে বিশ্বরাজনীতি বড় ধরনের অস্থিরতার মুখে পড়তে পারে। এমনকি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো একটি বৈশ্বিক সংঘাতও শুরু হতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বলকানের নস্ত্রাদামুস’ নামে পরিচিত এই রহস্যময় নারী বহু বছর আগেই ২০২৬ সালের জন্য কয়েকটি ভয়াবহ ঘটনার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তাঁর সেই ভবিষ্যদ্বাণীর মধ্যে রয়েছে বড় ধরনের যুদ্ধ, পরিবেশগত বিপর্যয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপ্রতিরোধ্য বিস্তার, এমনকি ভিনগ্রহের প্রাণের সঙ্গে মানুষের প্রথম যোগাযোগ!
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী আবারও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বৃদ্ধি, ইউরোপ থেকে সাইপ্রাসে নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েন এবং বিভিন্ন শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনাগুলো অনেকের কাছে এই ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়ার কারণ হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, বাবা ভাঙ্গা নাকি ২০২৬ সালে একটি বড় আন্তর্জাতিক সংঘাতের সূচনার কথা বলেছিলেন, যেখানে বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলো জড়িয়ে পড়তে পারে। এই সংঘাত বিভিন্ন মহাদেশে ছড়িয়ে পড়বে এবং বিশ্বরাজনীতিতে অস্থিরতা বাড়াবে।
এ ছাড়া তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, এ সময় চীন তাইওয়ানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে, যা নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে।
অর্থনীতির ক্ষেত্রেও বড় ধাক্কার পূর্বাভাস রয়েছে। তিনি নাকি তৃতীয় একটি বৈশ্বিক আর্থিক ধস বা গুরুতর অর্থনৈতিক মন্দার কথা বলেছিলেন, যার ফলে শেয়ারবাজারধস, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটতে পারে।
এই অস্থিরতার মধ্যেই রাশিয়ায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ রয়েছে। তিনি মত দিয়েছিলেন, ২০২৬ সালে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শাসনের অবসান ঘটতে পারে এবং এক নতুন শক্তিশালী নেতা ক্ষমতায় আসতে পারেন, যিনি বিশ্বরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবেন।
এ ছাড়া বাবা ভাঙ্গা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কথাও বলেছেন। তাঁর মতে, পৃথিবীর প্রায় ৮ শতাংশ অঞ্চলে ভয়াবহ আবহাওয়া, ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, টর্নেডো বা সুনামির মতো দুর্যোগ দেখা দিতে পারে।
প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। তাঁর মতে, ২০২৬ সাল থেকে শিল্প ও দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের বিপ্লব ঘটাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মানুষের জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে এটা প্রভাব বিস্তার করবে।
সবচেয়ে আলোচিত ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর একটি হলো ভিনগ্রহের প্রাণের সঙ্গে মানুষের প্রথম যোগাযোগ। তিনি নাকি বলেছেন, ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে একটি বিশাল মহাকাশযান পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে এবং এর মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে অজানা কোনো সভ্যতার যোগাযোগ ঘটতে পারে।
তবে এসব ভবিষ্যদ্বাণীর সত্যতা নিয়ে সন্দেহও রয়েছে। অনেক গবেষক মনে করেন, বাবা ভাঙ্গার নামে প্রচলিত বহু ভবিষ্যদ্বাণীর নির্ভরযোগ্য লিখিত প্রমাণ নেই। তবু রহস্যময় এই ভবিষ্যদ্বক্তার ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে বিশ্বজুড়ে মানুষের আগ্রহ কমেনি।