ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি সচল করতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা। আজ সোমবার ব্রাসেলসে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে আলোচনার জন্য আয়োজিত এই বৈঠকে ইউরোপীয় দেশগুলো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই মুহূর্তে কোনো সামরিক অভিযানে জড়াতে ইচ্ছুক নয়।
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, এই যুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা বার্লিনের নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের লক্ষ্য এবং পরিকল্পনা সম্পর্কে আমাদের বিস্তারিত জানাবে। পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়ার পর আমরা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে আলোচনা করব। তারপরই পরবর্তী ধাপে যেতে পারব।’
গতকাল রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, মিত্ররা যদি এই নৌপথ সচল করতে সহায়তা না করে, তবে তা ‘ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত খারাপ’ হবে।
এর জবাবে জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস আজ বার্লিনে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী নৌবাহিনী যা পারছে না, ইউরোপের গুটিকয়েক জাহাজ সেখানে গিয়ে কী করবে? এটি আমাদের যুদ্ধ নয়, আমরা এটি শুরু করিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই ইস্যুতে ন্যাটো ভেঙে পড়বে বলে আমি মনে করি না।’
গ্রিস ও ইতালির পক্ষ থেকেও ট্রাম্পের এই আহ্বানে নেতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। গ্রিক সরকারের মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস জানিয়েছেন, গ্রিস হরমুজ প্রণালিতে কোনো সামরিক কার্যক্রমে অংশ নেবে না। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানিও নিশ্চিত করেছেন, তার দেশও এই অঞ্চলে কোনো নৌ-মিশনে জড়াবে না।
তবে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লারস লোক্কে রাসমুসেন কিছুটা ভিন্ন মত পোষণ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের এই যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্তকে ইউরোপ সমর্থন না করলেও, নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে তাদের ‘আলোচনা’ করা উচিত।
ইইউর পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস জানান, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা পরোক্ষভাবে রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থ জোগানে সহায়তা করছে। তিনি বলেন, ‘সদস্য রাষ্ট্রগুলো হরমুজ প্রণালিতে ঠিক কী করতে ইচ্ছুক, তা আমাদের আগে আলোচনা করতে হবে।’
ফ্রান্স প্রস্তাব করেছে, লোহিত সাগরে জাহাজ রক্ষার জন্য ২০২৪ সালে গঠিত ইইউর ‘অ্যাসপাইডস’ মিশনের পরিধি বাড়িয়ে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করা যেতে পারে। বর্তমানে এই মিশনে ইতালি ও গ্রিসের জাহাজ সরাসরি কমান্ডে রয়েছে এবং ফ্রান্সের সমর্থনও পাওয়ার সুযোগ আছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে।