আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ (এইচআরডব্লিউ) অভিযোগ করেছে, ইরান সরকার ১২ বছর বয়সী শিশুদের সামরিক ও নিরাপত্তা-সম্পর্কিত কাজে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ১৫ বছরের নিচে শিশুদের সামরিক কাজে নিয়োগ ও ব্যবহার শিশু অধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর উদাহরণ এবং এটি সরাসরি যুদ্ধাপরাধের আওতায় পড়ে।
এইচআরডব্লিউর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রভাবশালী বিপ্লবী ইসলামিক গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বেসামরিক নাগরিকদের, এমনকি অপ্রাপ্তবয়স্কদেরও সামরিক বিভিন্ন কাজে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। এসব কাজের মধ্যে রয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রে রান্না করা, চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া, প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর মেরামতের কাজে অংশ নেওয়া।
এ ছাড়া শিশুদের নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট দায়িত্বেও নিযুক্ত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে চেকপোস্টে কাজ করা, টহল কার্যক্রমে অংশ নেওয়া, গোয়েন্দা নজরদারি ও যানবাহনের বহরে সহায়তা করা।
এইচআরডব্লিউর শিশু অধিকার বিভাগের সহযোগী পরিচালক বিল ভ্যান অ্যাজভেল্ড বলেন, শিশুদের টার্গেট করে সামরিক নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বিশেষ করে, যখন তাদের বয়স মাত্র ১২ বছর। দেখা যাচ্ছে, সামরিক বাহিনীর শক্তি বাড়াতে ইরানি কর্তৃপক্ষ শিশুদের জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে প্রস্তুত।
এদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত গণমাধ্যম ডেফা প্রেস জানিয়েছে, ‘হোমল্যান্ড ডিফেন্ডার ফাইটার্স ফর ইরান’ নামে একটি উদ্যোগের আওতায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা এটিকে জনসাধারণের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষা, রসদ সহায়তা ও ত্রাণকাজে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এইচআরডব্লিউ আরও জানায়, এই প্রচারণার অংশ হিসেবে একটি পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে। এতে একটি ছেলে, একটি মেয়েসহ দুই শিশুকে সামরিক পোশাকধারী এক ব্যক্তিসহ কয়েকজন প্রাপ্তবয়স্কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এমন উদ্যোগ শিশুদের নিরাপত্তা, মানসিক বিকাশ ও মৌলিক অধিকারের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।