মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক সংঘাতের উত্তাপ বাড়লেও তাতে সরাসরি জড়াতে নারাজ ইউরোপের শক্তিশালী দেশ জার্মানি। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মার্জ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও তার মিত্রদের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে, বার্লিন কোনোভাবেই সেই যুদ্ধের অংশ হতে চায় না।
বর্তমানে নরওয়ে সফররত চ্যান্সেলর মার্জ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সামরিক সুরক্ষা দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে জার্মানির নেই। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ইরান ও তার মিত্রদের সম্ভাব্য হামলার হাত থেকে জাহাজগুলোকে রক্ষা করতে বার্লিন সেখানে তাদের নৌবাহিনী পাঠাবে না। মার্জ বলেন, ‘জার্মানি এই যুদ্ধের অংশ নয় এবং আমরা কোনোভাবেই এর অংশ হতে চাই না।’
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, চ্যান্সেলর মার্জের এই মন্তব্য জার্মানির দীর্ঘদিনের সতর্ক পররাষ্ট্রনীতিরই প্রতিফলন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত যখন চরমে, তখন জার্মানি তার জাতীয় স্বার্থ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার কথা মাথায় রেখে একটি নিরপেক্ষ দূরত্ব বজায় রাখতে চাচ্ছে। চ্যান্সেলরের এই অবস্থান মিত্র দেশগুলোর মধ্যে কিছুটা বিস্ময় সৃষ্টি করলেও বার্লিন তার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী। ইরানের অভ্যন্তরে হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পাশাপাশি ইরাক, লেবানন ও সিরিয়ায় অবস্থানরত ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ওপরও হামলা চালানো হচ্ছে। এর জবাবে ইরানও হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজের ওপর হামলার হুমকি দিয়ে আসছে।
এই উত্তাল সময়ে জার্মানির নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা মূলত সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া রোধ করার একটি কূটনৈতিক প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে। চ্যান্সেলর মার্জের মতে, জার্মানির অগ্রাধিকার এখন এই অঞ্চলের মানবিক সংকট মোকাবিলা এবং কূটনৈতিক উপায়ে উত্তেজনা প্রশমন করা, সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া নয়।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা