হোম > বিশ্ব > আফ্রিকা

ইতিহাস জমা রাখল নাইজেরিয়া

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

পরিত্যক্ত কয়লাখনিতে অবস্থিত এই ভল্টেই সারা বিশ্বের ডেটা সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

উত্তর মেরুর কাছাকাছি বরফে ঢাকা দ্বীপপুঞ্জ ভালবার্ড। এই অঞ্চলটিতে সাধারণত বরফ, অন্ধকার আর নীরবতার রাজত্ব। কিন্তু সেখানেই এখন জায়গা করে নিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার গ্রামীণ মানুষের গল্প, সংস্কৃতি ও ইতিহাস। ‘বিশ্বের স্মৃতি’ সংরক্ষণের লক্ষ্যে আর্কটিকের গভীরে অবস্থিত ‘আর্কটিক ওয়ার্ল্ড আর্কাইভে’ আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জমা দিয়েছে নাইজেরিয়া।

একটি পরিত্যক্ত কয়লাখনির প্রায় ৩০০ মিটার গভীরে অবস্থিত এই সংরক্ষণাগারটি তৈরি করা হয়েছে এমনভাবে, যেখানে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শুষ্ক পরিবেশ তথ্য সংরক্ষণের জন্য আদর্শ। এখানে সংরক্ষিত হয় বিশেষ ধরনের ডিজিটাল ফিল্ম (Piql), যার স্থায়িত্ব প্রায় দুই হাজার বছর পর্যন্ত। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নাইজেরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সাংস্কৃতিক, সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক দলিল এই ভান্ডারে জমা দেয়।

এই প্রকল্পের অনুপ্রেরণা এসেছে কাছেই অবস্থিত ‘ভালবার্ড গ্লোবাল সিড ভল্ট’ থেকে। ভবিষ্যৎ দুর্যোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে ওই ভল্টে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ১০ লাখের বেশি বীজ সংরক্ষিত রয়েছে। একইভাবে, আর্কটিক ওয়ার্ল্ড আর্কাইভে সংরক্ষণ করা হচ্ছে মানবজাতির জ্ঞান, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার নিদর্শন—যাকে বলা হচ্ছে ‘বিশ্বের স্মৃতি’।

২০১৭ সালে নরওয়ের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এই আর্কাইভ চালু হয়। বর্তমানে ৩৭টি দেশের নানা প্রতিষ্ঠান এখানে তাদের দলিল জমা দিয়েছে। এর মধ্যে ভ্যাটিকান লাইব্রেরি এবং ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাও রয়েছে। সংরক্ষিত উপাদানের মধ্যে যেমন আছে সুরকার ফ্রেডেরিক চোপিনের পাণ্ডুলিপি, তেমনি রয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের বিলীনপ্রায় দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে কাজ করা আলোকচিত্রী ক্রিশ্চিয়ান ক্লাওয়ার্সের আলোকচিত্র।

নাইজেরিয়ার জমা দেওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস, শিল্পকলা এবং বিভিন্ন সৃজনশীল খাতের আর্কাইভ। দেশটির ১২টি প্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগে অংশ নেয়—যার মধ্যে রয়েছে আর্ট গ্যালারি, জাদুঘর, লাইব্রেরি এবং গবেষণা সংস্থা।

নাইজেরিয়ার উদ্যোগের মূল উদ্যোক্তা ইতিহাসবিদ এমেকা কিজোর। তিনি ২০২২ সালে Piql-এর আফ্রিকা শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ সম্ভব হয়েছে।

তবে এই উদ্যোগের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা কাজ করছে—আফ্রিকার বহু দেশের মতো নাইজেরিয়াতেও লাইব্রেরি ও আর্কাইভগুলো পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে দুর্বল। ফলে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। গবেষক চিমা কোরিয়েহ জানান, ১৯৬০ সালের পর থেকে অনেক সরকারি নথিই আর সংরক্ষিত নেই।

এদিকে, একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ইন্টারনেটের ৩৮ শতাংশ ওয়েবপেজ হারিয়ে গেছে। অর্থাৎ ডিজিটাল তথ্যও নিরাপদ নয়। এই প্রেক্ষাপটে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের জন্য আর্কটিক ওয়ার্ল্ড আর্কাইভ একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

Piql ফিল্মে তথ্য সংরক্ষণ ব্যয়বহুল—প্রতি রিলে প্রায় ৯ হাজার ইউরো। তারপরও ২০২৫ সালে এই আর্কাইভ অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়, যাতে আর্থিকভাবে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সহায়তা করা যায়। ইতিমধ্যে ইউনেসকোর সঙ্গে যৌথভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী দলিল সংরক্ষণের কাজও শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু তথ্য সংরক্ষণ নয়—বরং একটি জাতির নিজের ইতিহাস ও পরিচয় পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা।

ধর্মান্তরিত হও, নয়তো মৃত্যু—নাইজেরিয়ায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে জঙ্গিদের হুমকি

খরচ বেশি, নিরাপত্তাহীনতা: ট্রাম্পের আশ্বাসে যুক্তরাষ্ট্রে এলেও ফেরত যাচ্ছেন আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গরা

ইথিওপিয়ায় ভূমি ধসে নিহত অন্তত ৫২, নিখোঁজ অর্ধশত

গাম্বিয়ায় স্বৈরাচার উৎখাতের ২৬ বছর: বিচারের আশায় এখনো প্রহর গুনছে হাজারো পরিবার

নাইজেরিয়ায় ৪১টি মোটরসাইকেলে করে তিন গ্রামে হামলা, ৪৬ জন নিহত

সুদানের বিদ্রোহী বাহিনীকে গোপনে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইথিওপিয়া—খবর ফাঁস

হাতির হাত থেকে বাঁচতে চাওয়া জেলের প্রাণ কেড়ে নিল কুমির

নাইজেরিয়ায় প্রায় ২০০ জনকে হত্যা করল বন্দুকধারীরা

যেভাবে হত্যা করা হয় মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফকে

লিবিয়ায় ‘গুপ্তহত্যার’ শিকার মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফ