রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন করেছে আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন। আজ সোমবার বিকেল ৪টার দিকে হাসপাতালের ১ নম্বর গেটসংলগ্ন কার্ড কাউন্টারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শেখ মহিউদ্দিন বলেন, কোন কারণে শিশুদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনেও মৃত্যুর কারণ সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। এ ছাড়া যেসব নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে, তাদের কারও ময়নাতদন্তও করা হয়নি।
তদন্ত প্রতিবেদনে চিহ্নিত বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে ইতিমধ্যে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে জানিয়ে শেখ মহিউদ্দিন বলেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইড পরিমাপের যন্ত্র কেনা হয়েছে। যে শিশু ওয়ার্ডটি সিলগালা করা হয়েছে, সেটি সংস্কারের জন্য খুলে দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল নিয়ে আলোচনার মধ্যে গত শনিবার (১৩ জুন) নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, লাইসেন্স রক্ষার জন্য হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ কোটি কোটি টাকা নিয়ে তাঁর পেছনে ঘুরেছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘এই যে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে আমার পেছনে ঘুরেছে, আল্লাহর রহমতে, আপনাদের দোয়ায়, কোনো টাকার প্রতি লোভ হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনি যা করবেন, আমি পূর্ণ সমর্থন দেব। আমি লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি।’
মন্ত্রী আরও বলেন, কেউ কেউ বলছে, এটি অন্যায় হয়েছে। ছয়টি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মানুষের জীবন নিয়ে অবহেলা করলে ছাড় দেওয়া হবে না। লাইসেন্স বাতিলের এই সিদ্ধান্ত দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্যও একটি বার্তা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের এক দিন পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেন আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমি টাকা নিয়ে ঘুরিনি। আমি কেন মন্ত্রীর পেছনে ঘুরব? যদি মন্ত্রী এ ধরনের কোনো অভিযোগ করে থাকেন, তাহলে সেটির প্রমাণ তাঁকেই দিতে হবে।’
লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমরা সরকারের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই। মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন, এ ঘটনার মাধ্যমে অন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলো শিক্ষা পাবে। আমার হাসপাতালকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করে যদি অন্য হাসপাতালের উন্নতি হয়, তাহলে আমার কোনো আপত্তি নেই।’
হাসপাতাল ভবনের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আমরা সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেব।’ এ সময় তিনি জানান, আদ্-দ্বীনের নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামীকাল মঙ্গলবার আপিল করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পোস্ট-অপারেটিভে (অস্ত্রোপচার-পরবর্তী পর্যবেক্ষণ) কাছাকাছি সময়ে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর হাসপাতালটির বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গত শনিবার সরকার হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে এবং রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়।