‘কার বিপদ কখন আসে কেউ বলতে পারে না। ঈদের সময়ে যাত্রীদের আর বাড়ি ফেরা হলো না। ট্রেনটি রাস্তায় উল্টে গেল। আল্লাহ সবাইকে রক্ষা করো আমিন’—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে।
এই দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট আছে এখানে (আর্কাইভ)।
Thought Of Masud নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গতকাল (১৪ মার্চ) রাত ৮টার দিকে পোস্টটি শেয়ার করা হয়। পোস্টটিতে আজ বেলা ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ২০০টি রিয়েকশন পড়েছে। এ ছাড়া এটি ৪৬৪টি শেয়ার এবং এতে ২৩৮টি কমেন্ট রয়েছে।
শেয়ার করা পোস্টের কমেন্টগুলোতে নেটিজেনদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ লিখেছেন, ‘কত বছর আগের কথা?’ কেউ লিখেছেন, ‘আল্লাহ সবাইকে বেহেশত দান করুন, আমিন।’ আবার কেউ লিখেছেন, ‘ফেসবুকে পোস্ট দিলে তার ব্যাখ্যা দিতে হয়।’
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
ছবিটি পর্যবেক্ষণে বেশ কিছু অসঙ্গতি চোখে পড়ে। প্রথমত, বগির রং ও নকশা বাংলাদেশ রেলওয়ের কিছু ট্রেনের মতো মনে হলেও লোগো, লেখার ধরন এবং ডিজাইনে অমিল লক্ষ্য করা যায়। দ্বিতীয়ত, উল্টে পড়ে থাকা বগির চাকার গঠন অস্বাভাবিক পাতলা।
তৃতীয়ত, ভিড়ের মধ্যে থাকা একাধিক মানুষের চেহারা ও শরীরের গঠন অনেক ক্ষেত্রে একরকম মনে হয়। এ ছাড়া কারও কারও হাত ও পায়ের আঙুলের গঠনে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। চতুর্থত, ছবিতে দেখা পুলিশের পোশাক, রং এবং স্টাইল বাংলাদেশের পুলিশের প্রচলিত ইউনিফর্মের সঙ্গে মেলে না। এসব বৈশিষ্ট্য সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবিতে দেখা যায়।
এ ছাড়া এমন ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটলে জাতীয় গণমাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে খবর প্রকাশ হওয়ার কথা। কিন্তু অনুসন্ধানে এমন কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।
ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি কি না, তা নিশ্চিত হতে এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম Hive Moderation–এর সহায়তা নেওয়া হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৯৬ শতাংশ।
এ ছাড়া Thought Of Masud নামের ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, একই ধরনের আরও ভিন্ন (১, ২ ) ঘটনার পোস্ট সেখানে রয়েছে।
যাচাইয়ে দেখা যায় পেজটির ‘ইন্ট্রো’ তে লেখা আছে, ‘আমাদের পেইজে সকল ফটো এবং ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি করা হয়। যার কোন কিছুই বাস্তব নয়। সবকিছু মনগড়া এবং কাল্পনিক। ফটো কিংবা ভিডিও কেহই সিরিয়াসলি নিবেন না প্লিজ।’ (লেখা ও বানান অপরিবর্তিত)
সিদ্ধান্ত
ট্রেন দুর্ঘটনার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি বাস্তব ঘটনার নয়। ছবিটিতে একাধিক ভিজ্যুয়াল অসঙ্গতি রয়েছে এবং এআই শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্মের বিশ্লেষণে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করার সম্ভাবনা অনেক বেশি।