কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৯তম আসরটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ থেকে ২৩ মে। আজ ৯ এপ্রিল প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করা হয়েছে এবারের উৎসবের লাইনআপ। কানের মূল প্রতিযোগিতায় এ বছর জায়গা করে নিয়েছেন চলচ্চিত্র জগতের দিকপালেরা। উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার পাম দ্যর জয়ের লড়াইয়ে থাকবে বিশ্বখ্যাত নির্মাতাদের ২১টি সিনেমা।
আসগর ফরহাদি, পেদ্রো আলমোদোভার, পাওয়েল পাভলিকোভস্কি, ইরা স্যাক্স, হিরোকাজু কোরে-এদা, লাসলো নেমেস, রিউসুকে হামাগুচির মতো স্বনামধন্য নির্মাতারা কানের প্রতিযোগিতা বিভাগে তাঁদের নতুন সিনেমার প্রিমিয়ার করবেন।
কান উৎসবের গত আসরে টম ক্রুজের ‘মিশন: ইম্পসিবল—দ্য ফাইনাল রেকনিং’ এবং স্পাইক লির ‘হাইয়েস্ট টু লোয়েস্ট’-এর মতো হলিউডের বড় বড় সিনেমা ছিল। তবে এবারের উৎসবে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র এবং স্বাধীন ধারার নির্মাতাদেরই প্রাধান্য থাকবে। এবার স্যাক্সই একমাত্র মার্কিন পরিচালক, যিনি তাঁর ‘দ্য ম্যান আই লাভ’ নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। রামি মালেক অভিনীত এই সিনেমা তৈরি হয়েছে আশির দশকের নিউইয়র্কের এইডস সংকটের প্রেক্ষাপটে।
এবারের কান উৎসবে প্রতিযোগিতা বিভাগে অংশ নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে রোমানিয়ান নির্মাতা ক্রিস্টিয়ান মুঙ্গিউয়ের ‘ফিয়র্ড’, পোল্যান্ডের নির্মাতা পাওয়েল পাভলিকোস্কির ‘ফাদারল্যান্ড’, ইরানি পরিচালক আসগর ফরহাদির ‘প্যারালাল টেলস’, স্প্যানিশ নির্মাতা রদ্রিগো সোরোগোয়েনের ‘দ্য বিলাভড’, পেদ্রো আলমোদোভারের ‘বিটার ক্রিসমাস’, জাপানি পরিচালক হিরোকাজু কোরে-এডার ‘শিপ ইন দ্য বক্স’ এবং রিউসুকে হামাগুচির ‘অল অব আ সাডেন’।
কানের এবারের আসরের পর্দা উঠবে ফরাসি পরিচালক পিয়ের সালভাদোরির রোমান্টিক সিনেমা ‘দ্য ইলেকট্রিক কিস’ দিয়ে। এ ছাড়া উৎসবের অন্যতম বড় চমক হিসেবে থাকছেন অভিনেতা জন ট্রাভোল্টা। তাঁর পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘প্রোপেলার ওয়ান-ওয়ে নাইট কোচ’ কানের প্রিমিয়ার বিভাগে প্রদর্শিত হবে।
এবারের বিচারকমণ্ডলীর প্রধান হিসেবে থাকছেন কোরিয়ান নির্মাতা পার্ক চ্যান-উক। চলচ্চিত্র জগতে অসামান্য অবদানের জন্য এ বছর কিংবদন্তি পরিচালক পিটার জ্যাকসন ও বারব্রা স্ট্রাইস্যান্ডকে সম্মানসূচক পাম দ্যর পুরস্কার দেওয়া হবে।
কান উৎসবের ডেলিগেট জেনারেল ফরাসি নির্মাতা থিয়েরি ফ্রেমো জানিয়েছেন, অফিশিয়াল সিলেকশনের জন্য ২ হাজার ৫৪১টি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা জমা পড়েছিল এবার। তিনি বলেন, ‘মাত্র ১০ বছর আগের তুলনায় এক হাজার সিনেমা বেশি পেয়েছি এবার। ১৪১টি দেশ থেকে চলচ্চিত্র জমা পড়ায় আমরা অলিম্পিকে অংশ নেওয়া দেশের সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। তবে এখন আমাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য এমন একটি স্থানে চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা, যেখানে সারা বিশ্ব তা সহজে দেখতে পারবে।’