চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস
চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসের ২০তম আসরে আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা এবং বিশেষ সম্মাননা পাচ্ছেন শিল্পী কাঙালিনী সুফিয়া। ৭ এপ্রিল বগুড়ার একটি পাঁচ তারকা হোটেলের উন্মুক্ত মাঠে জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসের প্রকল্প পরিচালক রাজু আলীম।
আজীবন সম্মাননাপ্রাপ্তি প্রসঙ্গে কনকচাঁপা বলেন, ‘এই সময়ে এসেই আজীবন সম্মাননাপ্রাপ্তিতে আমার অনুভূতিটা আসলে মিশ্র। হঠাৎ করে মনে হলো যে জীবনটা কি তাহলে শেষের পথে? ১৯৮৪ সালে সংগীতে আমার পেশাদার জীবন শুরু হয়। সেই হিসাবে ৪২ বছরের পেশাদার সংগীতজীবন। চ্যানেল আই থেকে যখন আমাকে আজীবন সম্মাননার কথা বলা হলো, তখন একটু দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম, এখনো তো আমার গান গাওয়ার দিন শেষ হয়নি। হতে পারে যে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ গানটি আমি সামনে গাইব। আমার স্বামী সংগীত পরিচালক মইনুল ইসলাম খান আমাকে বললেন, তুমি তো অনেকটা পথ হাঁটলে, এই সময়ে এসে আজীবন সম্মাননা গ্রহণ করলেই যে তোমার পথ ফুরিয়ে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। আসলে শিল্পীর জীবনে অতৃপ্তি যেমন থাকে, তেমনি যেকোনো প্রাপ্তি আনন্দের কারণ হয়। আজীবন সম্মাননাপ্রাপ্তির মানে নিশ্চয়ই শিল্পী হিসেবে অবদান রাখতে পেরেছি বাংলা গানের জগতে। সত্যিই ভালো লাগছে। ধন্যবাদ সংশ্লিষ্ট সবাইকে।’
১৯৭৬ সালে বেতারের কলকাকলী অনুষ্ঠানে বশির আহমেদের সুরে ‘আমারই দেশ একটি ফুলের মতো’ গানটি কনকচাঁপার গাওয়া প্রথম মৌলিক গান। ১৯৭৮ সালে নতুন কুঁড়িতে কনকচাঁপা দেশাত্মবোধকে প্রথম, দলীয়সংগীতে প্রথম এবং উচ্চাঙ্গসংগীতে দ্বিতীয় হয়েছিলেন। প্রথম প্লেব্যাক করেন ‘বিধাতা’ সিনেমায়। এরপর অসংখ্য সিনেমায় গেয়েছেন তিনি। ‘লাভ স্টোরি’ সিনেমায় গান গেয়ে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এরপর আরও দুবার পেয়েছেন এই পুরস্কার।
অন্যদিকে বাংলা গানের জগতে ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’র মতো জনপ্রিয় গানের পাশাপাশি অসংখ্য গান উপহার দিয়েছেন কাঙালিনী সুফিয়া। সংগীতে বিশেষ অবদানের কারণেই তাঁকে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ সম্মাননা।
২০২৪ সালের সিডি, ডিভিডি ও অনলাইনে রিলিজকৃত প্রায় সব গানের মধ্য থেকে বাছাই করে আজীবন সম্মাননাসহ মোট ১৮ বিভাগে এবার পুরস্কার দেওয়া হবে ‘টিএমএসএস চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’-এ।
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, ‘এই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় সম্পূর্ণ যোগ্যতার ভিত্তিতে। এখানে পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ নেই। এই স্বীকৃতি একজন নবীন শিল্পীকে যেমন প্রেরণা জোগায়, তেমনি একজন প্রবীণ শিল্পীকে তাঁর কাজে উৎসাহ দেয়।’