‘বই হচ্ছে মস্তিষ্কের সন্তান’—বিখ্যাত এই উক্তি আয়ারল্যান্ডের জনপ্রিয় লেখক জনাথন সুইফটের। বই পড়ার মাধ্যমে মানুষের চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি আর মেধার বিকাশ ঘটে। মানসিক প্রশান্তি, আত্মিক উৎকর্ষ এবং জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রেও বইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। নিয়মিত বই পড়া মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মত দেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও মোবাইল আসক্তির কারণে তরুণদের একটি বড় অংশ ধীরে ধীরে বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তরুণদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনা জরুরি হয়ে উঠেছে।
এই লক্ষ্য সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের মাঝে বই পড়ার সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে ‘পাঠকবন্ধু’। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আয়োজন করা হয় এক প্রাণবন্ত বই আড্ডার। বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।
শুক্রবার দুপুরের পর শুরু হয় এই আড্ডা। শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রিয় বই, লেখক এবং লেখার বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করেন। আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে বইয়ের চরিত্র নিয়ে কথোপকথন এবং ছোট ছোট অভিনয়ের মুহূর্তগুলো পুরো পরিবেশকে করে তোলে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়।
একপর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা একে অপরের সঙ্গে নিজেদের প্রিয় বই বিনিময় করেন।
টিএসসির সামনে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই আয়োজন ক্যাম্পাসে এক ভিন্ন আবহ সৃষ্টি করে। পথচারীরাও থমকে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে থাকেন এই বইমুখী আড্ডার দিকে। অনেকের চোখে ধরা পড়ে কৌতূহল ও প্রশংসার এক নীরব অভিব্যক্তি।
পাঠকবন্ধুর সদস্য তাহমিনা সোনিয়া বলেন, বই শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি লেখার দক্ষতাকেও সমৃদ্ধ করে।
অন্য সদস্য তানহা তামান্না বলেন, বই চিন্তা করতে শেখায়, জীবনের নানা দিক বুঝতে সাহায্য করে এবং অবসর সময়কে অর্থবহ করে। পাঠকবন্ধুর সদস্যসচিব মোতমাইন্না আক্তার মুন্নী বলেন, বই মানুষের অন্যতম বিশ্বস্ত সঙ্গী। এটি মূল্যবোধ গঠনে সহায়ক এবং কল্পনার জগৎকে প্রসার করে। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং তা অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি। বই উপহার দেওয়া, পাঠচক্র গঠন এবং সামাজিক মাধ্যমে বই নিয়ে আলোচনা—এসব উদ্যোগ মানুষকে বইমুখী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।