হোম > অপরাধ > রংপুর

ধর্ষণের বিচার না পেয়ে দম্পতির বিষপান, স্ত্রীর মৃত্যু

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলায় স্বামীর ধার আনা টাকা দিতে না পারায় এক গৃহবধূকে জিম্মি করে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছিল পাওনাদার ও তাঁর সহযোগীরা। স্থানীয় মাতবরদের কাছে এ ঘটনার বিচার চেয়েও পাননি ওই গৃহবধূ ও তাঁর স্বামী। এতে ক্ষোভে-অপমানে গত শুক্রবার বিষপান করেন এ দম্পতি। টাকার অভাবে চিকিৎসাও হয়নি তাঁদের। এর মধ্যে গত বুধবার দুপুরে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। উপজেলার সদর ইউনিয়নের কলেজপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া গৃহবধূর নাম আশা বেগম। তাঁর স্বামী এখনো অসুস্থ। এ দম্পতির তিন বছরের একটি সন্তান রয়েছে। মৃত্যুর আগে ২২ মে স্থানীয় কয়েকজনের কাছে ওই গৃহবধূ ধর্ষণে জড়িতদের নাম ও ঘটনা বর্ণনা করেন। তাঁর জবানিতে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁরা হলেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের হলপাড়া গ্রামের জয়নাল মিয়া এবং তাঁর সহযোগী কারিগরপাড়ার শুক্কুর কসাই, ডাকাতপাড়ার আলম কসাই ও টাঙ্গাইলপাড়ার সোলেমান।

গৃহবধূর ওই ভাষ্যের একটি অডিও রেকর্ড এই প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। তাতে তিনি পাশবিক নির্যাতনের বর্ণনা করেছেন। বর্ণনায় আশা বেগম অভিযোগ করেন, তাঁর বাবা নেই। মা গৃহকর্মীর কাজে বিদেশে থাকেন। স্বামী টাঙ্গাইলে কাজ করেন। স্বামীর ধার করা 
পাওনা টাকা দিতে না পারায় স্থানীয় জয়নাল মিয়া মাস দুয়েক আগে থেকে তাঁকে ধর্ষণ করতে শুরু করেন। গোপনে সেই ঘটনার ভিডিও করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পরে জয়নালের সঙ্গে তাঁর সহযোগী আলম কসাই, শুক্কুর কসাই ও সোলেমানও তাঁকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেন।

তাঁদের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে একপর্যায়ে স্বামীকে ঘটনা জানান। পরে স্থানীয় মাতব্বরদের কাছেও বিচার দেন এ দম্পতি। কিন্তু মাতবররা কোনো ব্যবস্থা নেননি। উল্টো জয়নাল আবার ফোন দিয়ে টাকা ফেরত চান।

ঘটনার বিষয়ে গৃবধূর স্বামী বলেন, ‘আমি জিগাইলে হে খালি কান্দে। পরে সব জানতে পারি। বিচার চাইলে তারা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। জয়নাল আমারে মাইরা ফেলার হুমকি দেয়।’

গৃহবধূর স্বামী ও স্থানীয় লোকজন জানান, ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আনোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় লোকজনের কাছে বিচার দিয়েছিলেন ভুক্তভোগীরা। কিন্তু মাতবররা কোনো ব্যবস্থা নেননি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিষপানের পর গুরুতর অবস্থায় তাঁদের প্রথমে রাজিবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে জামালপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসক তাঁদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলেন। কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় এই দম্পতি বাড়িতে চলে আসেন। বুধবার বাড়িতেই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নেয়।

এদিকে ওই দম্পতির বিষপানের পর ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে থানার পুলিশ ম্যানেজের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের ২০ হাজার টাকা দিয়ে ঘটনা মীমাংসার সিদ্ধান্ত হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। জয়নাল ভুক্তভোগীদের চিকিৎসায় ২০ হাজার টাকা দিতে চাইলেও তা নেননি ওই দম্পতি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে জয়নাল মিয়ার ফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করে তা বন্ধ পাওয়া গেছে। ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঘটনা গোপন ছিল। আমরা জানতাম না। আর ওই চ্যাংড়া (গৃহবধূর স্বামী) একেকবার একেক কথা কয়। বিষ খাওয়ার পর চিকিৎসার জন্য জয়নাল ২০ হাজার টাহা দিছে। হের স্বামী নেয় নাই।’

নির্যাতনে অতিষ্ঠ গৃহবধূর বিষপানে মৃত্যু হলেও বিষয়টিকে অপমৃত্যু বলছেন রাজিবপুর থানার ওসি আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এমন কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। স্বামী-স্ত্রী দুজনই বিষপান করলে স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। স্বামীর অবস্থার উন্নতি হয়েছে।’

ভুক্তভোগী পরিবার ও মাতবররা কেউ তাঁদের কিছু জানায়নি দাবি করে ওসি বলেন, ‘ভিকটিমের (গৃহবধূর) মামা আমাদের বলেছেন যে তিনি বিষ খেয়েছেন। তাই অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।’

‘আ.লীগের দালালি করছিস, বেডরুমে গিয়ে বউ-বাচ্চাসহ গুলি করব’

চিরিরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক নিহত

তারাগঞ্জে নিখোঁজের তিন দিন পর মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার

অচেতন করে দুই পরিবারে স্বর্ণালংকার-নগদ টাকা চুরি

চিকিৎসার অভাব: শিকলবন্দী জীবন

বিএনপি একদিকে ফ্যামিলি কার্ড দেবে, অন্যদিকে লুটপাট করবে: আখতার

‘যদি কিছু ঘটে, তার দায় বিএনপি হাইকমান্ডকে নিতে হবে’

বেরোবিতে ১৮ বছরেও নির্মিত হয়নি স্থায়ী শহীদ মিনার

ইফতারসামগ্রীর দাম কমানোর খবর জানাতে মাইকিং

রংপুর বিভাগ: অন্যদের দুর্বলতায় জামায়াতের উত্থান