নারীর ক্ষমতায়নে নিজেদের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সম্প্রতি ‘হার এশিয়াটিক সার্কেল’ নামের একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটি। আজ সোমবার রাজধানীর বনানীর ‘বাতিঘর আর্ট স্পেস’-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্ল্যাটফর্মটির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মী, নেতৃত্বস্থানীয় কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রাণবন্ত আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময়ে মুখর ছিল আয়োজনটি।
প্ল্যাটফর্মটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। অংশগ্রহণকারীদের পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হতে ও নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে বিভিন্ন নেটওয়ার্কিং সেশনের আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন ও জ্ঞান বিনিময়ের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে এই প্ল্যাটফর্ম।
অনুষ্ঠানে একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল সেশনের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের কথা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে তাদের প্রতিভা ও সৃজনশীলতাকে সবার সামনে তুলে ধরা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির নারী কর্মীদের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। দক্ষতা বিনিময়, ক্যারিয়ার উন্নয়ন, সৃজনশীলতা, জীবনযাপন এবং কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা হবে এই প্ল্যাটফর্মে। পাশাপাশি নারী কর্মীদের আইনি অধিকার, আর্থিক সচেতনতা ও মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রমও আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে সমতা এবং নারী পেশাজীবীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়েও খোলামেলা আলোচনা হবে এ প্ল্যাটফর্মে।
এই উদ্যোগ সম্পর্কে এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্রেয়া সর্বজয়া বলেন, ‘এটি কেবল যোগাযোগের একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্ম নয়। এখানে আমরা এমন একটি কমিউনিটি গড়ে তুলছি যেখানে নারীরা সাহসিকতার সঙ্গে নিজেদের গল্প তুলে ধরবেন এবং বর্তমান বা সাবেক সহকর্মী—সবাই একে অপরের পাশে থেকে সামনে এগিয়ে যাবেন।’
আগামী দিনগুলোতে বছরজুড়ে নিয়মিত যোগাযোগ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন অনলাইন এবং অফলাইন মাধ্যম ব্যবহার করবে প্ল্যাটফর্মটি। এই উদ্যোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সবার অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা। এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটি’র বর্তমান ও সাবেক নারী কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে কাজ করবে এ প্ল্যাটফর্ম।
এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটির চেয়ারপারসন সারা যাকের তাঁর মতামত ব্যক্ত করে বলেন, প্রকৃত ক্ষমতায়ন শুধু কারও ব্যক্তিগত সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং একটি কমিউনিটির সকলের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার মধ্য দিয়েই তা আরও সমৃদ্ধ হয়। এই বিশ্বাস থেকেই ‘হার এশিয়াটিক সার্কেল’-এর যাত্রা। সমাজের নানা ক্ষেত্রে নারীরা তাঁদের মেধা ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন, এ উদ্যোগ সেই অবদানেরই স্বীকৃতি।
বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মশালা, সাংস্কৃতিক আয়োজন, সৃজনশীল প্রদর্শনী ও নেতৃত্ব-বিষয়ক সেশনের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য আরও সহযোগিতাপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করেছে এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটি।