প্রজ্ঞাপন জারি
ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা প্রায় দ্বিগুণ করে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে এ ধরনের ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ শতাংশ। আগে গ্রাহকেরা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং জামানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা ঋণ সুবিধা পেতেন। নতুন নীতিমালায় এই সীমা বাড়িয়ে জামানতহীন ঋণসীমা করা হয়েছে ২০ লাখ টাকা এবং জামানতের বিপরীতে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ লাখ টাকা।
গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড-সংক্রান্ত হালনাগাদ নীতিমালা জারি করে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। নতুন নীতিমালায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সীমা, সুদ ও বিভিন্ন মাশুলের পাশাপাশি গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একাধিক নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০০৪ সালে জারি করা আগের নীতিমালা বাতিল করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সাধারণত গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা অর্থ বা অন্যান্য নিরাপদ জামানতের ভিত্তিতে এ ধরনের ঋণসীমা নির্ধারণ করা হয়।
নতুন এই নির্দেশনায় নগদ অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রেও সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কার্ডধারীরা তাঁদের মোট ক্রেডিট সীমার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ অর্থ নগদে উত্তোলন করতে পারবেন। তবে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কেনাকাটার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সুদমুক্ত সুবিধা থাকলেও নগদ অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে কোনো সুদমুক্ত সময়সীমা প্রযোজ্য হবে না।
নীতিমালায় সুদ ও মাশুল আরোপের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ক্রেডিট কার্ডের ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুদহার হবে ২৫ শতাংশ। সুদ কেবল বকেয়া টাকার ওপর আরোপ করা যাবে, পুরো বিলের ওপর নয়। পাশাপাশি কার্ড সচল করার আগে কোনো ধরনের ফি বা মাশুল নেওয়া যাবে না। বিল পরিশোধে বিলম্ব হলে বিলম্ব ফি মাত্র একবার আরোপ করা যাবে।
সুদহার বা অন্য কোনো চার্জ পরিবর্তন করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে অন্তত ৩০ দিন আগে কার্ডধারীকে লিখিত বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে জানাতে হবে বলেও নির্দেশনায় বলা হয়েছে।
গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও নতুন নীতিমালায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাওনা অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো ব্যাংক বা তাদের নিযুক্ত রিকভারি এজেন্ট গ্রাহককে মানসিক বা শারীরিকভাবে হয়রানি করতে পারবে না। গ্রাহকের পরিবার, বন্ধু বা রেফারেন্স হিসেবে দেওয়া ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও রক্ষা করতে হবে। বকেয়া আদায়ের জন্য ফোনকল বা সরাসরি যোগাযোগ কেবল অফিস সময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
কার্ড হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্লক করার সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু রাখতে হবে।
ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতার ক্ষেত্রেও কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। তবে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা, যারা প্রধান কার্ডধারীর ওপর নির্ভরশীল, তারা সম্পূরক বা সাপ্লিমেন্টারি কার্ড ব্যবহার করতে পারবে। এ ছাড়া আবেদনকারীর ই-টিন সনদ এবং একটি পরিষ্কার সিআইবি প্রতিবেদন থাকতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের পরিসর দ্রুত বাড়তে থাকায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, ভোক্তার অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বশীল ঋণ বিতরণ উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।