হোম > অর্থনীতি

‘টানাটানির সংসারে যদি ৩০০ টাকা বাঁচে, এইটা আমাগো জন্য অনেক কিছু’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

দীর্ঘক্ষণ রোদে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার পর শান্তিনগরে ট্রাক থেকে টিসিবির তেল, চিনি ও ডাল কিনেন আমেনা খাতুন। ছবি: আজকের পত্রিকা

রোদে দাঁড়িয়ে ঘাম ঝরলেও মুখে হাসি আমেনা খাতুনের। শান্তিনগরের এক গৃহকর্মী তিনি। বাজারে যাচ্ছিলেন তেল ও ডাল কিনতে। পথেই চোখে পড়ে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ভ্রাম্যমাণ ট্রাক। দাম শুনেই লাইনে দাঁড়িয়ে গেলেন।

বাজারে যেখানে লিটারপ্রতি সয়াবিন তেলের দাম ১৮৯, সেখানে ট্রাকে মিলছে ১১৫ টাকায়। ২ লিটারে সাশ্রয় ১৪৮ টাকা। সঙ্গে ২ কেজি মসুর ডাল ও ১ কেজি চিনি মিলিয়ে তাঁর মোট সাশ্রয় প্রায় ৩০০ টাকা। সংসারের টানাপোড়েনে এই সাশ্রয় আমেনা খাতুনের কাছে অনেক বড় স্বস্তি, যদিও এর জন্য তাঁকে ১ ঘণ্টা রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে।

আমেনা খাতুন বলেন, ‘আমি শান্তিনগর বাজারে যাইতেছিলাম সদাই কিনতে। এখানে তেল বেচে দেখে দাঁড়াইছি। আমরা মাইনষের বাড়িত কাম কইরা যা পাই, তা দিয়া কোনোরকম সংসার চালাইতে হয়। টানাটানির সংসারে যদি তিন শ টাকা বাঁচে, এইটা আমাগো জন্য অনেক কিছু। তবে এর জন্য এক ঘণ্টা রইদের মধ্যে দাঁড়াই থাকুন লাগছে আমার।’

আজ রোববার (১০ আগস্ট) থেকে আগের ঘোষণা অনুযায়ী রাজধানীসহ সারা দেশে টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেলে নিত্যপণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতিটি প্যাকেজে রয়েছে ২ লিটার ভোজ্যতেল (প্রতি লিটার ১১৫ টাকা), ১ কেজি চিনি (৮০ টাকা) ও ২ কেজি মসুর ডাল (প্রতি কেজি ৭০ টাকা)। প্যাকেজের দাম ৪৫০ টাকা।

প্রথম দিন রাজধানীতে ৬০ স্থানে, আর সারা দেশে মোট ১২৮টি ট্রাকে এ পণ্য বিক্রি হয়। প্রতিটি ট্রাকে ৫০০ জনের জন্য পণ্য বরাদ্দ ছিল।

খিলখেতে রাজউক ট্রেড সেন্টারের সামনে টিসিবির পণ্য কিনতে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: জাহিদুল ইসলাম

বিক্রি শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই দীর্ঘ লাইন পড়ে যায় এবং গড়ে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় সব পণ্য শেষ হয়ে যায়। কোথাও কোথাও ভিড় ও অপেক্ষার কারণে অনেকে মাঝপথে ফিরে যান। লাইনে দাঁড়ানো ক্রেতাদের অভিযোগ, পণ্যের তুলনায় মানুষের সংখ্যা বেশি, আর কিছু ক্ষেত্রে কেউ কেউ দুবার পণ্য নিয়েছেন।

সেগুনবাগিচা বাজারের সামনে পণ্য বিক্রি করছিলেন রিনি এন্টারপ্রাইজের বিক্রয় প্রতিনিধি মো. লিটন। তিনি জানান, বেলা ১টায় বিক্রি শুরু করে আড়াই ঘণ্টায় ৪৩০ জনকে পণ্য দেওয়া হয়েছে, বাকিটা শেষ হতে আধা ঘণ্টা লাগবে। সচিবালয়, শাহবাগ, বনশ্রী, যাত্রাবাড়ীসহ অন্যান্য স্থানে একই পরিস্থিতি ছিল।

বাসাবো বালুর মাঠের ক্রেতা নেসার আহমেদ দোকান বন্ধ রেখে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে ধৈর্য হারিয়ে ফিরে যান। তাঁর ভাষায়, ‘মানুষের তুলনায় পণ্য কম, তাই শেষ পর্যন্ত পাওয়া যাবে কি না, সে নিশ্চয়তা নেই।’

গত মে ও জুন মাসে ঈদুল আজহা সামনে রেখে একইভাবে পণ্য বিক্রি করেছিল টিসিবি। তখন তেলের দাম ছিল লিটারপ্রতি ১৩৫, চিনি কেজিপ্রতি ৮৫ ও ডাল কেজিপ্রতি ৮০ টাকা। এবার তেল লিটারে ২০, চিনি কেজিতে ৫ ও ডাল কেজিতে ১০ টাকা করে কমেছে।

টিসিবির এ কার্যক্রম ঢাকায় চলবে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, আর ঢাকার বাইরে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।

সোনার দাম টানা দুই দফায় বাড়ল ১২০৭২ টাকা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিতে কমল তেলের দাম, মার্চের পর সর্বনিম্ন

টিআইএন বাধ্যবাধকতা: ব্যাংক হিসাব-সঞ্চয়ে ভাটা পড়ার ভয়

ইসলামী ব্যাংকের পুরো পর্ষদ বাতিল, প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ নিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বিশ্বকাপ ঘিরে নগদের কুইজ-রিচার্জ ক্যাম্পেইন, থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার

ফের চালু হচ্ছে ঢাকা-নারিতা রুটে বিমানের ফ্লাইট, কাল সংবাদ সম্মেলন

এলজিইডির ক্রিম প্রকল্পের জিসিএফ রিজিওনাল টিমের মিশন সম্পন্ন

বাজেটে সৌরবিদ্যুতে সরকারি সুবিধা সীমিত গোষ্ঠীর মধ্যে আটকে গেছে: বিএসআরইএ

অলিগার্কদের নির্মূল করাই বিএনপি সরকারের লক্ষ্য: মির্জা ফখরুল

বাজেটে নতুন ১০ উদ্যোগ: অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর আশা