‘বাজারে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের বিস্তার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। অনেক ক্ষেত্রে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মজুতদারি ও কারসাজির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভোক্তাদের ভোগান্তিতে ফেলছে।’
রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আজ রোববার বিশ্ব ভোক্তা-অধিকার দিবস উপলক্ষে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত র্যালি ও প্রতিবাদ সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। এবার বিশ্ব ভোক্তা-অধিকার দিবসের প্রতিপাদ্য ‘নিরাপদ পণ্য নিশ্চিত করি, ভোক্তার আস্থা গড়ে তুলি’। অনুষ্ঠানে ভেজাল, নকল ও অনিরাপদ পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ; দ্রব্যমূল্যের অযৌক্তিক বৃদ্ধি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপসহ বেশ কিছু দাবি তুলে ধরে ক্যাব।
বক্তারা বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সরকারি দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকার যদি তাদের এ সুযোগ বন্ধ করে দেয়, তাহলে অনেকাংশে সিন্ডিকেট ভেঙে যাবে।
জানা গেছে, ১৯৬২ সালের ১৫ মার্চ তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ভোক্তাদের মৌলিক অধিকার নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন। সেই ঘটনার স্মরণে ১৯৮৩ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি উদ্যাপন করা হচ্ছে। এরপর থেকে বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করে আসছে নাগরিক সংগঠন ক্যাব।
অনুষ্ঠানে ক্যাবের সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হলেও বাংলাদেশে তা জাতীয়ভাবে পালন না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। তিনি অভিযোগ করেন, বাজারে সিন্ডিকেটের কারণে নিত্যপণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়ছে। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত সিন্ডিকেট ভেঙে বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হবে।
ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া বলেন, ভোক্তার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁদের সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে। তিনি নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ক্যাব ঢাকা জেলার সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সামছ এ খান (অব.) বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে সিন্ডিকেট ভেঙে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ক্যাবের কোষাধ্যক্ষ ড. মো. মুঞ্জুর-ই-খোদা তরফদার বলেন, ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষা এবং ন্যায্য বাজারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সরকারকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মিজানুর রহমান রাজু বলেন, দেশে বিশ্ব ভোক্তা-অধিকার দিবস সরকারিভাবে পালন করা হচ্ছে না, যা দুঃখজনক। ভোক্তার অধিকারকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি না দিলে তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়বে।
যেসব দাবি জানাল ক্যাব
কর্মসূচিতে ক্যাবের পক্ষ থেকে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ভেজাল, নকল ও অনিরাপদ পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ; দ্রব্যমূল্যের অযৌক্তিক বৃদ্ধি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ; পণ্যের সঠিক মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা; ভুয়া বিজ্ঞাপন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য বন্ধ করা; বাজার তদারকি জোরদার করা; ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ আধুনিক ও কার্যকর করা এবং অনলাইন ও ই-কমার্সে বিক্রি হওয়া পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।