আট মাসের বকেয়া বেতন ও চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে রাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) আওতাধীন বিভিন্ন হর্টিকালচার সেন্টারের আউটসোর্সিং কর্মীরা।
আজ সোমবার দুপুর থেকে খামারবাড়ি প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় দ্রুত বকেয়া পরিশোধ এবং চাকরি পুনর্বহালের দাবি জানান ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা। বিকেল পাঁচটার দিকে তাঁরা অবস্থান কর্মসূচি শেষ করেন।
কর্মীদের অভিযোগ, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২৮১ জন কর্মীকে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১৫ জুন তাঁরা বিভিন্ন হর্টিকালচার সেন্টারে কাজে যোগ দেন। তবে যোগদানের মাত্র ১৫ দিন পরই জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির টেন্ডারের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
আন্দোলনরত কর্মীদের দাবি, কোম্পানির পক্ষ থেকে টেন্ডার নবায়নের আশ্বাস দিয়ে তাঁদের কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়। সেই আশ্বাসে তাঁরা টানা ৮ মাস ১৫ দিন দায়িত্ব পালন করলেও মাত্র ১৫ দিনের বেতন দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বেতন না পেয়ে তাঁদের কর্মস্থলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
চট্টগ্রামের দেওয়ানহাট হর্টিকালচার সেন্টারের মো. রুমন রহমান নামের একজন আউটসোর্সিং কর্মী বলেন, ‘আমরা আগেও কয়েক দফা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো সমাধান পাইনি। সচিবালয়ে গেলে বলা হয়েছে, অধিদপ্তর সমাধান করবে। কিন্তু কোনো সমাধান না পেয়ে আমরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছি। ঈদে আমরা কোনো বেতন–বোনাস না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।’
আন্দোলনরত কর্মীরা তিন দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা, ২৮১ জন কর্মীকে পুনর্বহাল বা সমমানের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং বকেয়া বেতনসহ সব পাওনা দ্রুত পরিশোধ করা। কর্মীরা জানান, বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো কর্মচারীকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া যায় না। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত সমাধান চান তাঁরা।