ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর হামলা জোরদার করেছে ইরান। এতে আকাশপথে চলাচলের অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। থমকে গেছে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ। গত শনিবারের পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান প্রধান বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। করোনাভাইরাসের মহামারির পর উড়োজাহাজ চলাচলে এত বড় বিপর্যয় আর দেখা যায়নি।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবি এবং কাতারের দোহার মতো বিশ্বের প্রধান ট্রানজিটগুলো বন্ধ হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে যোগাযোগব্যবস্থা। তিন দিন ধরে বন্ধ থাকায় পর আরও চাপের মধ্যে পড়ছে এয়ারলাইনসগুলো। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানে হামলা আরও চার সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।
এতে উড়োজাহাজ চলাচলে আরও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
এদিকে যুদ্ধ শুরু পর ব্রিটিশ নাগরিকদের বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ভ্রমণে সতর্ক করছে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর। আর যাঁরা সেখানে আছেন, তাঁদের নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে করোনা মহামারির পর সবচেয়ে বড় ফ্লাইট বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে বিশ্ব। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারগুলো তাদের পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
গতকাল সোমবার ভোরে ১ হাজার ২৩৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে এমিরেটস এয়ারলাইনস, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ ও কাতার এয়ারওয়েজ সম্মিলিতভাবে শত শত ফ্লাইট বাতিল করেছে। অন্যান্য এয়ারলাইনসও একই পথে হেঁটেছে। গত রোববার এয়ার ইন্ডিয়া দিল্লি, মুম্বাই ও অমৃতসর থেকে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার প্রধান শহরগুলোর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইট বাতিল করে। বাংলাদেশ থেকেও এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইট অ্যাওয়্যার অনুসারে, গত শনিবার প্রায় ২ হাজার ৮০০টি এবং রোববার ৩ হাজার ১৫৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া গত রোববার রাতে ও গতকাল সোমবার সকালে ১ হাজার ২৩৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার ২৪ অনুসারে, ইরানের হামলার পর থেকে গতকাল পর্যন্ত ইরান, ইরাক, কুয়েত, ইসরায়েল, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের আকাশসীমায় উড়োজাহাজ ওড়েনি। এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে।
ফ্লাইট রাডার ২৪-এর যোগাযোগ পরিচালক ইয়ান পেটচেনিক বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধের ফলে এখন বিমান সংস্থাগুলো সংকীর্ণ করিডরে পরিণত হচ্ছে। এর মধ্যে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের যুদ্ধ এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি যাদের
বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা এমিরেটস এয়ারলাইনস গতকাল স্থানীয় সময় বেলা ৩টা পর্যন্ত সব পরিষেবা স্থগিত করে। ইতিহাদ এয়ারওয়েজ বেলা ২টা পর্যন্ত আবুধাবি এবং দুবাই থেকে সব ফ্লাইট স্থগিত করে। ফ্লাইট কার্যক্রম স্থগিত করে কাতার এয়ারওয়েজ।
ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে উড়োজাহাজের ক্রু ও পাইলটরা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে রয়েছেন। যার ফলে আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিলেও ফ্লাইট পরিচালনা করা জটিল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার কারণে আকাশপথে ভ্রমণে তথ্য পেতেও মুশকিলে পড়ছেন যাত্রীরা।