হোম > অর্থনীতি

ইপিবির প্রতিবেদন: রপ্তানি আয়ে বৈশ্বিক অস্থিরতার চাপ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ও বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনে মুখ্য ভূমিকায় থাকা রপ্তানি খাত প্রতি মাসেই প্রবৃদ্ধি অর্জনে হোঁচট খাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসের মধ্যে ৮ মাসই কমেছে দেশের পণ্য রপ্তানি আয়। আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ কমার পর সদ্যবিদায়ী মার্চে আরও নিম্নমুখী হয়েছে, কমেছে ১৮ দশমিক ০৭ শতাংশ। এর আগে চলতি অর্থবছরের শুরুতে জুলাই মাসে ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেয়েছিল রপ্তানি খাত।

খাত-সংশ্লিষ্টরা শিল্পকারখানায় কর্মদিবস কমে যাওয়া, বৈশ্বিক বাজারে পোশাকের দাম হ্রাস এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় সরবরাহ ব্যাহত হওয়াকে তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে বলছেন, তবে কার্যত তাঁরাও ছুঁতে পারছেন বৈশ্বিক অস্থিরতা ও দেশে জ্বালানি-সংকটের মুখে সামগ্রিক রপ্তানিপ্রবণতা গভীরতর সংকটের দিকেই এগোচ্ছে। তাঁরা বলছেন, এমন একসময়ে রপ্তানি কমছে, যখন বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের স্থিতিশীলতা দেশের অর্থনীতির জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, মার্চে রপ্তানি আয় কমে ৩ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। গত বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ৪ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার। ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি হয়েছিল ৩ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ—এই ৯ মাসে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৩৭ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার থেকে ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ কম।

মার্চে পবিত্র ঈদুল ফিতরের কারণে উৎপাদন কার্যক্রমে বিরতি ছিল। এতে কারখানা থেকে বন্দরে পণ্য সরবরাহ কম হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাকের দাম কমে যাওয়ায় রপ্তানির পরিমাণ বাড়লেও আয় কমে যাচ্ছে, যা সামগ্রিক চিত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তথ্য বলছে, দেশের মোট পণ্য রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ফলে এই খাতে পতন পুরো রপ্তানি আয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি আয় ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ কমে ২৮ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩০ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার। শুধু মার্চে এই খাতে রপ্তানি কমেছে ১৯ শতাংশের বেশি, আয় হয়েছে ২ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর থেকেই সে দেশের ক্রয়াদেশ কমতে শুরু করে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় বাজারেও অর্ডার কমেছে। চীনা রপ্তানিকারকেরা কম দামে পণ্য সরবরাহ করে ইউরোপের বাজারে বড় অংশ দখল করায় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।

নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এই খাত অতীতে এত দীর্ঘ সময় ধরে চাপের মধ্যে ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির প্রভাব এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি মিলিয়ে রপ্তানি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে, ডিজেলের ঘাটতিতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ইপিবির বিশ্লেষণেও বৈশ্বিক পরিস্থিতির একই প্রভাব স্পষ্ট।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানিতে। অতিরিক্ত জাহাজ ভাড়া দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে সীমিত পরিসরে পণ্য পাঠানো শুরু হয়েছে। অন্য খাতগুলোর চিত্রও মিশ্র। মার্চে সিমেন্ট ও কেমিক্যাল পণ্যের রপ্তানি কমেছে ১৮ শতাংশ, চামড়া খাতে কমেছে ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং কৃষিপণ্যে সামান্য হ্রাস পেয়েছে। তবে প্লাস্টিক পণ্যে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। হিমায়িত মাছ, চামড়া ও প্রকৌশল পণ্য খাতে কিছু ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক পতনকে আংশিকভাবে সামাল দিচ্ছে।

শপিং মল ১১টা থেকে ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখতে চান ব্যবসায়ীরা, পুনর্বিবেচনার দাবি

যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ রপ্তানিতে দিতে হবে ১০০ শতাংশ শুল্ক

এনবিআরে বাজুসের প্রস্তাব: বাজেটে সোনা ও হীরায় ব্যাপক করছাড় দাবি

সংকট মোকাবিলা: বিকল্প উৎস থেকে সাত লাখ টন তেল আনা হবে

বাজারদর: তেল, মাংস ও মুরগির বাজার এখনো চড়া

এক প্রান্তিকে নগদের সর্বোচ্চ লেনদেনের নতুন রেকর্ড

সৌদি থেকে বিকল্প পথে চট্টগ্রামে আসছে ১ লাখ টন তেল

১২ কেজির এলপিজির দাম বেড়ে ১৭২৮ টাকা

মজুত পর্যাপ্ত, এপ্রিল মাসে আমরা পুরোপুরি নিরাপদ: জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব

ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম বাড়ল ৫ ডলারের বেশি, সোনার বাজারও ঊর্ধ্বমুখী