হোম > সারা দেশ > সিলেট

সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু, ওসমানীতে আইসোলেশন সেন্টার চালু

সিলেট সংবাদদাতা 

ছবি: সংগৃহীত

সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সিলেট এম এজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যায়। আজ মঙ্গলবার (১২ মে) বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ২৮ জনে দাঁড়াল। মারা যাওয়া দুই শিশু হলো সাত মাস বয়সী ইকরা জান্নাত ও ১০ মাস বয়সী শিশু মারওয়ান। তাদের মধ্যে ইকরাকে সিলেট নগর থেকে এবং মারওয়ানকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা থেকে এনে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

এদিকে হামের লক্ষণ নিয়ে আসা রোগীর চাপ ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য সিলেট বিভাগীয় পরিচালক কার্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামের উপসর্গ নিয়ে গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ৫৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৩০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৪ জন, দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ১ জন এবং বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন ভর্তি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২৮৯ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি আছে। তাদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১২৩ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৭২ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৮ জন চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি হাসপাতালেও রোগীরা ভর্তি রয়েছে।

প্রতিবেদনে তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ১৪৭ জনের হাম ও রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জে সবচেয়ে বেশি ৭৩ জন আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়া সিলেটে ৪২ জন, হবিগঞ্জে ১৬ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৬ জন শনাক্ত হয়েছে। হবিগঞ্জের আক্রান্তদের মধ্যে দুজন রুবেলায় আক্রান্ত। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো ল্যাবে হাম রোগী শনাক্ত হয়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, ‘সোমবার রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আলাদা আইসোলেশন ব্যবস্থার প্রয়োজন দেখা দেয়। সে অনুযায়ী ৩২ নম্বর ওয়ার্ডকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করে ৩৮ শয্যার এই ইউনিট চালু করা হয়েছে।’

উমর রাশেদ মুনির বলেন, ‘বিশেষ রোগী ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম শুরু হয় এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে। শুরুতে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১০০ শয্যা নিয়ে রোগী ভর্তি কার্যক্রম চালু করা হয়। পরবর্তী সময় চাপ বাড়ায় ধাপে ধাপে সেবা সম্প্রসারণ করা হয়।’

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আরও বলেন, ‘রোগীর চাহিদা বিবেচনায় এর আগেই ওসমানী হাসপাতালে ১০ শয্যার পিআইসিইউ এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৭ শয্যার এইচডিইউ ইউনিট চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার চাপ মোকাবিলায় দুই হাসপাতালের মধ্যে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা চলমান রয়েছে।’

ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামের রোগীদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়ার মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ করাই এই আইসোলেশন সেন্টার চালুর মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে অন্যান্য রোগীর চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।

সিলেটের কানাইঘাটে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

সিলেটে ফের পরিবহনশ্রমিকদের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি

সাজাভোগ শেষে তামাবিল দিয়ে ৭ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল ভারত

মরিশাসে পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের শ্রমবাজার, জেনেভায় বৈঠক

সীমান্ত অপরাধ রোধে জাফলং সীমান্তে বিজিবি-জনসাধারণের যৌথ টহল

সিলেটে ৬ সাংবাদিক পেলেন ‘মাওলানা রশীদ আহমদ প্রেস লিগেসি অ্যাওয়ার্ড’

মে মাসে সিলেটে সড়কে নিহত ৫১, বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা

সরকারকে ‘ফুঙ্গা’ বলে দুঃখপ্রকাশ জামায়াত নেতার, এমপি বললেন ‘পুরোনো মুখোশ’

ইঞ্জিন সংকটে ৫ ট্রেন বন্ধ, বিপাকে যাত্রীরা

অবশেষে সংবাদ সম্মেলন করে জরিমানার ব্যাখ্যা দিলেন ওসমানীনগর ইউএনও