মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে আদমপুর বাজার সড়কের প্রস্থ ১৮ ফুট থাকলেও একই সড়কের ওপর নির্মিত সেতু ও কালভার্টের প্রস্থ মাত্র ১০ ফুট। সড়কের তুলনায় সেতু ও কালভার্টের প্রস্থ কম হওয়ায় যানবাহন চলাচলের সময় ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের দাবি, সড়ক যখন বড় করা হয়েছে তখন পুরোনো সেতুগুলো প্রস্থে বড় করা খুবই প্রয়োজন।
কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে আদমপুর বাজার পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য ৭ কিলোমিটার। এই সড়কে অন্তত ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৮-২০টি সেতু ও কালভার্ট আছে। সড়কের প্রস্থের তুলনায় সেতু ও কালভার্টের প্রস্থ কম থাকায় সেখানে একসঙ্গে দুটি গাড়ি চলতে পারে না। এতে একটি গাড়ি আরেকটিকে ওভারটেক করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় অনেক মোটরসাইকেল ও যানবাহনের চালক সড়কের মতো কালভার্টকে বড় মনে করে চলতে গিয়ে সরাসরি ধাক্কা খান কালভার্টের পাশে থাকা পাকা রেলিংয়ে। এতে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অনেকেই গুরুতর আহত হন।
এলাকাবাসী জানান, কমলগঞ্জ-আদমপুর সড়ক উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের পথ। এখান দিয়ে কমলগঞ্জ পৌরসভাসহ চারটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। এ ছাড়া অনেক পর্যটক আসেন। সড়কে চলতে গিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনার মুখে পড়েন। জুবায়ের আলম নামের এক বাসিন্দা বলেন, রাতের বেলা মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় এই সড়কের কালভার্টের রেলিংয়ে ধাক্কা খেয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। অনেক দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন।
আব্দুল আহাদ নামের আরেকজন বলেন, ‘অন্যান্য সড়কের তুলনায় এই সড়কে অনেক বেশি ছোট ছোট কালভার্ট রয়েছে। একটু অসাবধান হয়ে যানবাহন বা মোটরসাইকেল চালালে দুর্ঘটনা ঘটে যায়। আমরা প্রতিদিন কয়েকবার আসা-যাওয়া করি। তারপরও আমি বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছি।’
কমলগঞ্জ উপজেলার প্রকৌশলী সাইফুল আজম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা দেখেছি। এখানে সড়কের চেয়ে সেতু ও কালভার্ট ছোট। এ নিয়ে আমরা একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছি।’
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ আব্দুল্লাহ বলেন, দুই মাস আগে এই সড়কের নতুন কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এই সড়কের সেতু ও কালভার্ট পুরোনো হওয়ায় ছোট সাইজের রয়ে গেছে। আমাদের পক্ষ থেকে সেতু ও কালভার্ট বড় করার জন্য ঢাকায় একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এটি অনুমোদন হলে আমরা কাজ করতে পারব।’