শরীয়তপুর সদর উপজেলায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সেই ভিডিও ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে দায় স্বীকার করেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের জেলা আহ্বায়ক মহসিন মাদবর। আজ শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে অগ্নিসংযোগের ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেন মহসিন মাদবর।
ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘সাব্বাশ শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। শরীয়তপুরের জুলাই স্মৃতি নামক ভণ্ডামিতে আগুন দেওয়ায় অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।’
ভিডিওতে দেখা যায়, শরীয়তপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ করছেন কয়েকজন যুবক। এতে স্মৃতিস্তম্ভে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। পরে তারা সেখান থেকে সটকে পড়েন।
মুহূর্তেই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে জেলা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রশাসন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা–কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। স্মৃতিস্তম্ভের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
রাত ১০টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, পুলিশ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা–কর্মীরা স্মৃতিস্তম্ভের পাশে রয়েছেন। স্মৃতিস্তম্ভটির কয়েক জায়গায় পোড়া দাগ দেখা যায়। তবে কখন অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেনি।
এ বিষয়ে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির বলেন, প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এর মাধ্যমে পুরো জুলাইকে অপমান করা হয়েছে।
দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দেন ইমরান।
ঘটনার পর জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ পরিদর্শন করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তবে এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ প্রশাসনের কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।