পিরোজপুরের নেছারাবাদে ঈদের ছুটির সুযোগে কৃষি অফিসের একটি সরকারি গুদামের তালা ভেঙে পুরোনো মেশিনের যন্ত্রাংশ বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে অসীম কুমার দাস নামে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় তাঁকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে চুরির অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শাতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অসীম কুমার দাস উপজেলার ৪৯ নম্বর ব্রাহ্মণকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার জসিম আহমেদ তাঁকে এই নোটিশ দেন।
জানা গেছে, গত রোববার (২২ মার্চ) সকালে উপজেলার বন বিভাগ কার্যালয়-সংলগ্ন কৃষি অফিসের একটি গুদামের তালা ভেঙে সেখানে রাখা পুরোনো যন্ত্রাংশ বিক্রির চেষ্টা করা হয়। ঈদের ছুটিতে আশপাশে লোকজন কম থাকায় সুযোগ নিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন বিভাগের কার্যালয়-সংলগ্ন কৃষি অফিসের ওই সরকারি গুদামে কয়েক লাখ টাকার পুরোনো পাওয়ার পাম্প ও ট্রাক্টরের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংরক্ষিত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, অসীম কুমার দাস রোববার সকালে সবার অগোচরে গুদামের তালা ভেঙে এসব যন্ত্রাংশ বিক্রির জন্য এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে ডেকে আনেন। এ সময় বন বিভাগের বাগান মালী মো. সেলিম হোসেন ঘটনাটি দেখতে পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে নেছারাবাদ কৃষি অফিসের কর্মচারী রথীন কুমার ঘরামীর হস্তক্ষেপে বিক্রির জন্য রাখা মালপত্র উদ্ধার করে পুনরায় গুদামে সংরক্ষণ করা হয়।
ভাঙারি ব্যবসায়ী আলী হোসেন জানান, অসীম কুমার দাস তাঁর দোকানে গিয়ে দোকান বন্ধ পেয়ে শাটারে দেওয়া মোবাইল নম্বরে ফোন করেন এবং কিছু পুরোনো মালামাল বিক্রির কথা বলেন। পরে তিনি মালামাল কিনতে গেলে দেখতে পান সেগুলো সরকারি গুদামের। প্রথমে তিনি কিনতে রাজি না হলেও অসীম কুমার দাস তাঁকে বলেন, অফিসের কর্মকর্তাদের নির্দেশেই এসব বিক্রি করা হচ্ছে এবং তাঁদের কিছু টাকা দিতে হবে। তবে স্থানীয় লোকজন দেখে ফেলায় তিনি মালপত্র নিয়ে যেতে পারেননি। সেখানে প্রায় ২০০ কেজি ওজনের পুরোনো পাওয়ার টিলার ও পাওয়ার পাম্পের যন্ত্রাংশ ছিল বলে তিনি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শী বন বিভাগের বাগানের মালী সেলিম হোসেন জানান, সকালে বাগানে পানি দেওয়ার সময় তিনি দেখেন গুদামের সামনে পুরোনো পাওয়ার টিলার ও পাওয়ার পাম্পের যন্ত্রাংশ ডিজিটাল মেশিনে ওজন করে ভাঙারি দোকানদারের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। কাছে গিয়ে তিনি দেখতে পান, অসীম কুমার দাস গুদামের তালা ভেঙে ওই যন্ত্রাংশ বিক্রি করছেন। ঈদের ছুটির সুযোগে সরকারি মালপত্র এভাবে বিক্রি করা ঠিক হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক অসীম কুমার দাস বলেন, ‘আমার বাসার সামনেই কৃষি অফিসের গুদাম। এটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। সেখান থেকে পাওয়ার পাম্পের কয়েকটি যন্ত্রাংশ (প্রায় ২০ কেজির মতো) বিক্রি করতে চেয়েছিলাম। এটি আমার ভুল হয়েছে।’
নেছারাবাদ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, তিনি ঈদের ছুটিতে থাকলেও বিষয়টি জানার পর কৃষি অফিসের কর্মচারী রথীন কুমার ঘরামীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তিনি মালামাল উদ্ধার করে পুনরায় গুদামে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠির জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার জসিম আহমেদ বলেন, ঘটনাটি ঈদের ছুটির সময় ঘটেছে। ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে বুধবার বিকেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।