কালবৈশাখীতে নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে সড়কের পাশে থাকা গাছপালা উপড়ে পড়ে পল্লী বিদ্যুতের লাইনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফলে জেলার সোয়া আট লাখ গ্রাহকের মধ্যে ৯০ ভাগই বিদ্যুৎহীন। একটানা গত ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় বিপাকে পড়েছে তারা।
সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে সেটি বজ্রসহ কালবৈশাখীতে রূপ নেয়। এতে জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ে। এ সময় ওসব গাছপালার পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের লাইন ও খুঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কবিরহাট উপজেলার ফলাহারী গ্রামের বাসিন্দা নূর নবী বলেন, ‘রাত ১২টার দিকে ঝোড়ো বাতাস শুরু হওয়ার পরপরই বিদ্যুৎ চলে যায়। ঝড়ে আশপাশে থাকা বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছপালা ভেঙে পড়েছে। সকাল থেকে কয়েকটি স্থানে বিদ্যুৎকর্মীদের গাছপালা অপসারণের কাজ করতে দেখেছি। তবে আমাদের এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ আসেনি।’
সদর উপজেলার নেওয়াজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন জানান, রাত থেকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গৃহস্থালির ইলেকট্রনিকস জিনিস নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে ফ্রিজে রাখা খাবারগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মোবাইলের চার্জও প্রায় শেষ। এতে লোকজনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা বন্ধ হয়ে যাবে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে লাইন সচল করার দাবি জানান তিনি।
সেনবাগ উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সকাল থেকে প্রচণ্ড গরম, এর মধ্যে নেই একটানা বিদ্যুৎ। এ অবস্থায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসা অনেকটা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় কম্পিউটার, ফটোকপি মেশিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ছি আমরা।’
নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. সরোয়ার জাহান বলেন, ‘পুরো জেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে ৮ লাখ ২০ হাজার জন। গত রাতে ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইন ও খুঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লাইন ছিঁড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের চেষ্টা চলছে। আমাদের বিদ্যুৎকর্মীরা ভোর থেকে বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে। আশা করছি বিকেলের মধ্যে বেশির ভাগ লাইন সচল করা যাবে।’