হোম > সারা দেশ > যশোর

যশোরে বর্ষবরণ শোভাযাত্রা রাঙাবে নতুন ভোরের বার্তাবাহক মোরগ

­যশোর প্রতিনিধি

বর্ষবরণ শোভাযাত্রার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এবার নতুন ভোরের বার্তাবাহক মোরগের ১৮ ফুট উচ্চতার বিশাল রেপ্লিকা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বর্ষবরণ শোভাযাত্রার আঁতুড়ঘর বলা হয় যশোরকে। এই শহর থেকেই চারুপীঠ নামের একটি সংগঠন ১৯৮৫ সালে শুরু করেছিল বর্ষবরণের প্রথম শোভাযাত্রা। সে সময়ের তরুণ মাহবুব জামাল শামীম ও হীরণ্ময় চন্দ্রের উদ্যোগে শোভাযাত্রাটি বের হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে তা সম্প্রসারিত হয়েছে। মিলেছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হওয়ার গৌরব। এবারও নববর্ষ (১৪৩৩) উদ্‌যাপনে বর্ণিল আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি। শহরের পৌর পার্কের কার্যালয়ে দিন-রাত চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি।

এবারের বর্ষবরণের শোভাযাত্রার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ থাকছে নতুন ভোরের বার্তাবাহক মোরগের ১৮ ফুট উচ্চতার বিশাল এক রেপ্লিকা, যা ইতিমধ্যে মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। লাল-হলুদ-সবুজের মিশেলে তৈরি এই শিল্পকর্মকে নতুন দিনের জাগরণের প্রতীক হিসেবেই ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি থাকছে বড় আকৃতির শান্তির প্রতীক পায়রা—সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে। আর শিয়ালের প্রতিকৃতি গ্রামীণ জীবনের চিরচেনা ছাপ তুলে ধরবে। আয়োজন শুধু এতেই সীমাবদ্ধ নয়। বৈশাখী শোভাযাত্রাকে বর্ণিল করে তুলতে প্রস্তুত করা হয়েছে ৩০০টি রাজা-রানির মুকুট, ২০০টি রং-বেরঙের মুখোশ এবং ৫০টি থিমভিত্তিক ফেস্টুন। ‘নিত্যনতুনের অমৃতধারা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে কাজ করছে সংগঠনটি। বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ-সংঘাতের প্রেক্ষাপটে শান্তি, সম্প্রীতি ও সবুজ পৃথিবীর বার্তা দিতে চায় তারা।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা দেশে প্রথম শোভাযাত্রার আয়োজক মাহবুব জামাল শামীম। গত বছর পয়লা বৈশাখে চারুশিল্পী মাহবুব জামাল শামীমকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ বছরের সার্বিক পেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন প্রথম শুরু করি, তখনই বলেছিলাম, বিভিন্ন অঞ্চল বিভিন্ন নাম রাখতে পারবে এই শোভাযাত্রার। শোভাযাত্রা যে উদ্দেশ্যে করা, তা হলো অঞ্চলে অঞ্চলের সংস্কৃতির চর্চা। এখন নাম পরিবর্তন হয়েছে; সেটা তো আমার কিছু করার নেই। আমি একজন সংস্কৃতিকর্মী। সংস্কৃতিকর্মীরা বিবাদে জড়ায় না। তারা চায় বন্ধুত্ব। যে নামই হোক না কেন—এটার যে লক্ষ্য ছিল, তা থেকে বিচ্যুত না হই আমরা। আমরা চাই, আয়োজনটি হোক সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে একটি সর্বজনীন উৎসব হোক। বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ-সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আমরা শান্তি, সম্প্রীতি ও সবুজ পৃথিবীর বার্তা দিতে চাই।’

চারুপীঠ প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, কেউ কাগজ কেটে ফুল, প্যাঁচা কিংবা নানা পাখপাখালির আদল গড়ছেন; কেউ গভীর মনোযোগে আঁকছেন নকশা। রঙে রঙে প্রাণ পাচ্ছে মুখোশগুলো। শিল্পীদের চোখেমুখে ক্লান্তি থাকলেও তাতে নেই বিরক্তি, বরং আছে একধরনের তৃপ্তি আর ভালোবাসা। শোভাযাত্রার জন্য চারুতীর্থ যশোরও তৈরি করছে মুখোশ, পাখি, ফেস্টুনসহ প্রাণ-প্রকৃতি।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সজল ব্যানার্জী বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও আমরা ব্যাপক আয়োজন করেছি। আমাদের থিম ‘‘প্রকৃতি’’। আমরা চাই, মানুষ বুঝুক প্রকৃতি ধ্বংস হলে মানবজাতির অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়বে। শোভাযাত্রার প্রতিটি উপস্থাপনায় এই বার্তাই তুলে ধরা হবে।’

চলছে গান-নাচ-গীতিনাট্যের মহড়া

বৈশাখের প্রথম প্রভাতে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে জেলা শহরের ৪০টি বেশি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে চলছে গান, নৃত্যচর্চা। সাংস্কৃতিক রাজধানীখ্যাত যশোরে বৃহৎ পরিসরে হয় বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। বিশেষ করে, উদীচী, বিবর্তন, পুনশ্চ, তির্যক, সুরবিতান, সুরধুনীসহ সংগঠনগুলো গান, নাচ, নাটক ও গীতিনাট্যের মহড়ায় ব্যস্ত এখন।

উদীচী যশোরের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান খাঁন বিপ্লব বলেন, ‘বরাবরের মতো পৌর উদ্যানে উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এবার সকালে ও বিকেলে দুই দফায় আমাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে। আমরা চাই, সবাই অংশগ্রহণ করুক এবং এই উৎসবকে সবার উৎসবে পরিণত করুক।’

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু বলেন, ‘যশোরের ৪০টির বেশি সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রায় এক হাজার সংস্কৃতিকর্মী উৎসবকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বর্ষবরণ ঘিরে যেন প্রাণের ছোঁয়া লেগেছে এই শহরে। এবার টাউন হল ময়দান থেকে সাড়ে ৮টায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে বের হবে বর্ষবরণের শোভাযাত্রা। দিনব্যাপী শহরজুড়েই থাকছে দেশীয় সংস্কৃতির নানা আয়োজন।’

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবারও বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদ্‌যাপিত হবে। এবারের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা কোনো মুখোশ পরতে পারবেন না। তবে প্রতিকৃতি বা প্ল্যাকার্ড হিসেবে মুখোশ ব্যবহার করা যাবে। সব অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে সন্ধ্যার আগেই। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রতিটি আয়োজক সাংস্কৃতিক সংগঠনকে পাঁচ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানস্থলে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি।

কেশবপুরে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে কৃষকের ধানের ক্ষতি

যশোরে খোদ বিচারকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা, বাদী গ্রেপ্তার

যশোর: কৌশলে সরকারি গাছ নিধন, নেই তদারকি

যশোর গণহত্যা দিবস: শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না পাওয়ায় ক্ষোভ

যশোর গণহত্যা দিবস আজ, শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি

যশোর শিক্ষা বোর্ডের আলোচিত চেক জালিয়াতির মামলায় ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন

শিমুলগাছ থেকে পড়ে কৃষকের মৃত্যু

ভুয়া মাদ্রাসার নামে ত্রাণের চাল লোপাটের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

যশোরে সাড়ে ৬ কোটি টাকার ডায়মন্ডসহ ভারতীয় নাগরিক আটক

মাইকে ঘোষণা দিয়ে মব সৃষ্টি করে পুলিশকে মারধর, আসামি ছিনতাই