গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে প্রায় আধা ঘণ্টার শিলাবৃষ্টিতে ফসল ও ফলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এ বৃষ্টি শুরু হয়। চলে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এতে মাঠে থাকা ভুট্টা, বেগুন, মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝরে গেছে আম ও লিচুগাছের মুকুল।
বৃষ্টি শেষে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ভুট্টা, মরিচ, বেগুন, ধানসহ বিভিন্ন ফসল মাঠে শুয়ে পড়েছে। পড়ে গেছে আম ও লিচুগাছের মুকুল। কৃষক-কিষানিরা জমিতে জমা পানি বের করে দিচ্ছেন। আবার কোথাও কোথাও মাটিতে শুয়ে পড়া ভুট্টার গাছগুলো খাড়া করা চেষ্টা করছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, এ বছরে সুন্দরগঞ্জে ৪ হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৮২০ হেক্টর। মরিচ আবাদ হয়েছে ১২২ হেক্টর জমিতে। এর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২০ হেক্টর। বেগুন আবাদ হয়েছে ৬৫ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৯ হেক্টর।
সোনারায় ইউনিয়নের ভুট্টাচাষি মো. আবদুল হাকিম মিয়া (৫০) বলেন, ‘সারা দিন আকাশ ভালোই ছিল। বৃষ্টি হওয়ার আধা ঘণ্টা আগেও ভালো ছিল আকাশ। হঠাৎ শুরু হলো বৃষ্টি। সঙ্গে ছোট ছোট শিল। বৃষ্টির মতো শিল পড়েছে। বেশিক্ষণ বৃষ্টিও হয়নি। হয়তোবা আধা ঘণ্টা হবে। বৃষ্টি শেষ হওয়ামাত্র জমিতে এসে দেখি ১৫ শতাংশ জমির প্রায় সবগুলো ভুট্টার গাছ মাটিতে পড়ে আছে। কিছু গাছ দাঁড় করিয়ে দিয়েছি। সবগুলো ওঠানো সম্ভব হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিজস্ব কোনো আবাদি জমি নেই। বন্ধকি জমি এটা আমার। খরচও হয়েছে অনেক। নষ্ট হলে ভীষণ বিপদে পড়ব পরিবার নিয়ে।’
বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মো. কালাম মিয়া (৪৫) বলেন, ‘ছোট-বড় সব মিলিয়ে আমগাছ আছে ১২টা এবং লিচুর গাছ আছে দুইটা। সামান্য কয়েক মিনিটের শিলাবৃষ্টিতে অর্ধেকেরও বেশি মুকুল ঝরে পড়েছে গাছগুলো থেকে। আবার যদি এ ধরনের শিলাবৃষ্টি হয়, তাহলে গাছে কোনো মুকুলই থাকবে না।’
কথা হয় বেগুনচাষি মো. আনারুল ইসলামের (৩৪) সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘নিজস্ব কোনো জমি নেই। প্রতিবেশীর ৩০ শতাংশ জমি বর্গা নিয়েছি। পরিবারের লোকজনসহ জমিতে কাজ করি। সে কারণে শ্রমিক খরচ নেই। তারপরেও গাছের চারা, সার ও ওষুধ বাবদ বেশ টাকা খরচ হয়েছে। আবাদও সুন্দর হয়েছিল। সবগুলো গাছে গাছে ফুলও ধরেছিল। কিন্তু শিলাবৃষ্টির কারণে বেগুনগাছের ফুলগুলো মাটিতে পড়ে গেছে। এখন কী হবে বুঝতে পারছি না। আবারও বৃষ্টি হলে গাছই সামলানো যাবে না।’
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাশিদুল কবির বলেন, ‘শিলাবৃষ্টির বিষয়ে মানুষের কোনো হাত নেই। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ফসল বাঁচানোর উপায়গুলো আমার কৃষকেরা জানেন। তাঁদের আমরা ফসল বাঁচানোর কলাকৌশল শিখিয়েছি বিভিন্ন প্রশিক্ষণে। এ সামান্য শিলাবৃষ্টিতে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না আশা করছি।'